হরিয়ানার গুরুগ্রামে “বাংলাদেশি” সন্দেহে আটক সাত জন পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দিলেন জেলা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি বিশ্বজিৎ হালদার। তাঁর মন্তব্য— “বিজেপি নেতারা এলাকায় এলে আটকে দিন, ঘেরাও করে রাখুন, ব্যবস্থা নিন।” এই বক্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে জেলাজুড়ে।
বিশ্বজিৎবাবুর দাবি, বাংলার পরিযায়ীদের উপর হরিয়ানায় চরম অত্যাচার চলছে। খাবার পর্যন্ত ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না ডিটেনশন ক্যাম্পে। অথচ বিজেপি নেতারা এলাকায় এসে ভোট চাইবে, কিন্তু বাংলার মানুষের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ করবে না— “এটা চলতে পারে না,” বলেন তিনি।
এই বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। জেলা বিজেপির দাবি— তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতা ও রাজ্যের কর্মসংস্থানের অভাবই পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যার মূল। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, “তৃণমূলই অনুপ্রবেশকারী ঢুকিয়ে বাংলার পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। আজ বাংলার যুবকরা কাজের খোঁজে বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।”
অন্যদিকে, রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ক তাজমুল হোসেন আশ্বাস দিয়েছেন, আটক শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসন সর্বতোভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে।
তবে তৃণমূল নেতার প্রকাশ্য হুঁশিয়ারির পর রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
মূল তথ্য এক নজরে:
হরিয়ানার গুরুগ্রামে ৭ পরিযায়ী শ্রমিক বাংলাদেশি সন্দেহে আটক।
পরিবারের অভিযোগ: ডিটেনশন ক্যাম্পে খাবার ও চিকিৎসার অভাব।
তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতির হুঁশিয়ারি: “বিজেপি এলে ঘেরাও করুন”।
বিজেপির পাল্টা: “পরিযায়ীদের সর্বনাশের মূল কারণ তৃণমূল”।
প্রশাসন জানিয়েছে: আটক শ্রমিকদের মুক্তির প্রক্রিয়া চলছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বাংলা বনাম বহির্ভূত রাজ্য রাজনীতির সংঘাত। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।







