জলপাইগুড়ি: রেল ব্রিজে দাঁড়িয়ে পড়েছে ট্রেন। সামনে খরস্রোতা তিস্তা নদী। মাঝ ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ট্রেন থেমে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপদের ভ্রুক্ষেপ না করে সাহসিকতার নজির গড়লেন সহ চালক কুমার সৌরভ। ট্রেনের তলায় হামাগুড়ি দিয়ে গিয়ে একের পর এক বগির খুলে যাওয়া ভাল্ব নিজে হাতে জুড়ে দিলেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার, জলপাইগুড়ির তিস্তা নদীর উপরে দীর্ঘ প্রায় ১০০ মিটার রেল সেতুর উপর। নিউ জলপাইগুড়ি গামী বি জি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের একাধিক বগিতে কেউ বা কারা চেন টেনে দেওয়ায় খুলে যায় বগির ভাল্ব। ফলস্বরূপ ট্রেন মাঝ সেতুতে দাঁড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৪৫ মিনিট বিলম্ব হয় ট্রেন চলাচলে। কিন্তু সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ছিল সহ চালকের বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
রেলের প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে কুমার সৌরভ ট্রেনের তলা দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে সেতুর মাঝখানে গিয়ে একে একে ভাল্ব জুড়ে দিচ্ছেন। রেল এই ঘটনা প্রকাশ করে প্রশংসার ঝড় তোলে নেটমাধ্যমেও।
এই সাহসিকতার জন্য আলিপুরদুয়ার রেল ডিভিশনের ডিআরএম অমরজিৎ গৌতম ঘোষণা করেছেন বিশেষ পুরস্কারের। তাঁর কথায়, “এই ধরণের ঘটনা প্রায়শই ঘটছে। কিন্তু রবিবারের ঘটনাটি একেবারেই ব্যতিক্রমী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে কাজ করেছেন, সেটা সম্মানের দাবি রাখে। আমরা তাঁকে পুরস্কৃত করব।”
এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি পুরনো আস্থা ও সংস্কারও। শিবভক্তদের মধ্যে বহু বছর ধরে প্রচলিত রয়েছে শ্রাবণ মাসে তিস্তার জল সংগ্রহ করে জল্পেশ মন্দিরে গিয়ে পূজা দেওয়ার রীতি। অনেক সময়েই যাত্রীরা ওই সেতুর ধারে ট্রেন থামিয়ে নেমে জল সংগ্রহ করতেন। যদিও নিয়ম বহির্ভূতভাবে স্টেশন ছাড়া ট্রেন থামানো এখন রেল বন্ধ করে দিয়েছে।
তবে এদিনও ব্রিজের ধারে থাকা কয়েকজন যাত্রী ট্রেন থেকে নেমে নদী থেকে জল সংগ্রহ করেন এবং রওনা দেন জল্পেশ মন্দিরের উদ্দেশে।
সাহস, কর্তব্যবোধ ও মানবিকতার এই গল্প এখন গোটা আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের গর্ব। কুমার সৌরভের মতো চালকই আজকের রেলের আসল হিরো।







