মালদহ:বিয়ের পাঁচ দিন আগে হঠাৎই নিখোঁজ হয়েছিলেন এক যুবক। পাঁচদিন পর তাঁকে পাওয়া গেল নিথর অবস্থায়—মাথা আলাদা, শরীর জখমে ছিন্নভিন্ন। মালদহের চাঁচল থানার গোরখপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা।
নিহত যুবকের নাম নাহারুল আলি (২৮)। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। আগামী ২৫ জুলাই তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল মোবারকপুর গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে। বিয়ের তোড়জোড় চলছিল পুরোদমে। কিন্তু হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি।
বুধবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন নাবালক গোরখপুর এলাকার একটি বাঁশবাগান লাগোয়া জঙ্গলে শৌচকর্মে গিয়ে দুর্গন্ধ টের পেয়ে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করে নাহারুলের পচাগলা দেহ—গলা কাটা, শরীর জুড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত। পাশে পড়ে ছিল কাটা মাথা।
নাহারুলের পরিবার জানায়, ছেলেকে খুনে উস্কানি দিয়েছে এক বিবাহিত মহিলা। পরিবারের দাবি, মোবাইল ফোন খুলে দেখা গিয়েছে এক বিবাহিত মহিলার সঙ্গে ঘন ঘন ফোনালাপের প্রমাণ। এমনকি এক কল রেকর্ডে তাঁকে বারবার নাহারুলকে ডাকতে শোনা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সম্পর্ক নিয়ে সম্প্রতি গ্রাম্য সালিশিও হয়েছিল। নাহারুলের পরিবারকে দিতে হয়েছিল জরিমানা। পুলিশ ইতিমধ্যেই মোবাইল ডেটা ও কল রেকর্ড খতিয়ে দেখছে। খুনের পেছনে প্রেমঘটিত টানাপোড়েনের তত্ত্বই প্রাথমিকভাবে উঠে আসছে।
মালদহ মেডিক্যাল কলেজে দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। তদন্তে নেমেছে চাঁচল থানার পুলিশ, তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। প্রশ্ন উঠছে, প্রেমঘটিত সম্পর্কে জড়িয়ে আর কত যুবক প্রাণ হারাবে এমন নির্মমভাবে?







