হিঙ্গলগঞ্জ, উত্তর ২৪ পরগনা — রাস্তাঘাট নেই, আছে শুধু জল আর কাদা। কোমর সমান জল, হাঁটুসমান কাদা – এই দৃশ্য যেন হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের গোবিন্দকাটি অঞ্চলের প্রতিদিনের বাস্তব। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল এই রাস্তায় নিত্যদিন নরকযন্ত্রণা সহ্য করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি অসুস্থ এক রোগীকে কাঠের দোলনায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ফের একবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। সরব হলেন সাধারণ মানুষ।
১০৮ নম্বর বুথের মালিকান ঘুমটির রাস্তা কার্যত এখন জলাশয়ে পরিণত। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, রোগী থেকে গর্ভবতী মহিলা, স্কুলছাত্র—প্রতিদিন সবাইকে বিপদসঙ্কুল এই পথেই চলাফেরা করতে হয়। বৃষ্টির দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। অনেক সময় পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ গাজী বলেন,
“রাস্তা বলতে আর কিছু নেই। দেড় কিলোমিটারজুড়ে কোথাও হাঁটুজল, কোথাও কোমরসমান কাদা। বৃষ্টি হলে চলাফেরা অসম্ভব। রোগীকে দোলনায় নিয়ে যেতে হচ্ছে। কতবার বলেছি, কেউ শোনেনি।”
বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষ বারবার ব্লক প্রশাসন ও বিধায়ক দেবেশ মন্ডল-কে জানিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এই পরিস্থিতিতে একজোট হয়ে বিক্ষোভে নামেন গ্রামবাসীরা।
বিজেপির রাজ্য মিডিয়া সেলের মুখপাত্র দীপঙ্কর সরকার কটাক্ষ করে বলেন,
“এখনো পর্যন্ত এমন বেহাল রাস্তা কোনো বিধায়কের বাড়ির পাশেও দেখা যায়নি। তৃণমূল সরকারের কাজের নমুনা স্পষ্ট। ২০২৬ সালের ভোটে মানুষ তার মোক্ষম জবাব দেবে।”
প্রসঙ্গত, হিঙ্গলগঞ্জের বর্তমান বিধায়ক দেবেশ মন্ডল, যিনি আগে এই পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন, তিনিও সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য,
“সবটাই মিডিয়া বানানো। ওখানে তো কাজ শুরু হয়েছে। আগে থেকে সাংবাদিকরা বলেছে বলেই ওরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে।”
তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, এক দশক ধরে একই আশ্বাস পাচ্ছেন তাঁরা—কিন্তু রাস্তার কোনও হাল ফেরেনি। বরং পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ রাজনৈতিক তরজা বাড়ালেও বাস্তবে যে দুর্ভোগের শেষ নেই, তা স্পষ্ট গোবিন্দকাটি গ্রামের প্রতিটি জলমগ্ন ধাপে।







