রাজ্য

দক্ষিণেশ্বরে রাষ্ট্রপতির পুজোয় অলৌকিক ঘটনা! মা ভবতারিণীর হাত থেকে পড়ল ফুল

কলকাতা: কল্যাণী এইমসের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের পর দেশের প্রথম নাগরিরা পৌঁছলেন দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর কন্যা ইতিশ্রী মুর্মু। সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ মন্দিরে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। গঙ্গাপারের ঐতিহ্যবাহী এই তীর্থক্ষেত্রে তিনি ভবতারিণী মায়ের আরাধনায় অংশ নেন ধূপ-প্রদীপ জ্বালিয়ে।

আরতি চলাকালীন আচমকাই মায়ের হাত থেকে একটি পদ্মফুল গড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত পুরোহিত ও মন্দির কর্তৃপক্ষের অভিমত—এ এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ সংকেত, এক আশীর্বাদ। রাষ্ট্রপতি নিজেই সেই গড়িয়ে পড়া ফুল চেয়ে নেন। পায়ে আঙুল ছুঁইয়ে মায়ের প্রতি প্রণাম জানান তাঁর কন্যা। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির হাতে মানপত্র, বই এবং ভবতারিণী মা ও মন্দিরের ছবি তুলে দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে এদিন উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস, রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় সহ একাধিক বিশিষ্ট জন। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছিল গোটা দক্ষিণেশ্বর চত্বর। দুপুর বারোটার পর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় দর্শনার্থীদের প্রবেশ, ফেরি পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। গঙ্গার উপর ছিল নৌসেনার কড়া নজরদারি।

মন্দিরের অছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী জানান, “মায়ের আরতিতে অংশগ্রহণ করার সময় রাষ্ট্রপতির একাগ্রতা এবং ভক্তিভাব সত্যিই দেখার মতো ছিল। পদ্মের পাপড়ি গড়িয়ে পড়াকে আমরা অত্যন্ত শুভ লক্ষণ হিসেবেই দেখছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে এসেছিলেন দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ। তার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আবার এক রাষ্ট্রপতির আগমনে আপ্লুত মন্দির কর্তৃপক্ষ ও ভক্তমণ্ডলী। কুশল চৌধুরী আরও বলেন, “রানি রাসমণির মতো দ্রৌপদী মুর্মুও নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক। দু’জনেই সমাজের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন—এই মিল আমাদের গর্বিত করে।”

মায়ের চরণে রাষ্ট্রপতির এই নিবেদন এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকল দক্ষিণেশ্বরের জন্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.