যিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যতম যোদ্ধা, তাঁরই পরিবারের বিরুদ্ধে উঠল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। পূর্ব বর্ধমানের দক্ষিণ দামোদর এলাকায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বাড়ি থেকে ধরা পড়ল বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা। অভিযানে নেমে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে।
বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর পেয়ে সংস্থার আধিকারিকরা অভিযান চালান ওই আধিকারিকের পৈত্রিক বাড়িতে। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, মূল তার কেটে সরাসরি ‘হুকিং’-এর মাধ্যমে চালানো হচ্ছে এসি, ফ্রিজ, টিভি, ওয়াশিং মেশিন ও জলপাম্প। বাড়ির মিটার সম্পূর্ণ বাইপাস করে দীর্ঘদিন ধরেই এই বেআইনি সংযোগ ব্যবহার হচ্ছিল বলে অনুমান।
অভিযানের সময় বাড়িতে ছিলেন আধিকারিকের বাবা। বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের দাবি, আধিকারিক নিজে ফোন করে পুলিশ যেন বাড়ি না আসে, তার অনুরোধও জানান। তবে গোটা প্রক্রিয়া ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দফতর।
পূর্ব বর্ধমান বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার রিজিয়নাল ম্যানেজার গৌতম দত্ত বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।”
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
তৃণমূল নেতা ও জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি দেবু টুডুর কটাক্ষ, “যাঁদের হাতে দুর্নীতি রোখার দায়িত্ব, তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধেই বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ! চুরি ধরা পড়তেই দফতরে চাপ সৃষ্টি— এমন অফিসারের তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হবে?”
কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, “এই ঘটনায় গোটা সিস্টেম নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থারই উচিত, নিজস্ব স্তরে নিরপেক্ষ তদন্ত করা।”
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের বক্তব্য, “আইন রক্ষক যদি নিজেই আইন ভাঙেন, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে কী বার্তা যাবে?”
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অফিসার গ্রামে আরও একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করছেন। যদিও পুরনো বাড়িতেই তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মা।
এই ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, ক্ষমতার অপব্যবহার কতটা নীচে নামিয়ে দিতে পারে কোনও সিস্টেমকে।







