নিজস্ব সংবাদদাতা:
ওভালের মঞ্চে শেষ দিনের সকালটায় ছিল চরম উত্তেজনা। ভারতের প্রয়োজন ছিল মাত্র চারটি উইকেট, ইংল্যান্ডের দরকার ৩৫ রান। আর ঠিক সেখানেই টেস্ট ক্রিকেট দেখাল তার অমোঘ রূপ—ঘাম, রক্ত, জেদ আর অজেয় আত্মবিশ্বাস। শেষপর্যন্ত মাত্র ৬ রানে অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নিল ভারত, আর সেই সঙ্গে ৫ টেস্টের মর্যাদার সিরিজ শেষ হল ২-২ ব্যবধানে ড্র হয়ে।
শেষ দিনে বল হাতে জ্বলে উঠলেন মহম্মদ সিরাজ। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। ইংল্যান্ডের শেষ ব্যাটার গাস অ্যাটকিনসনকে আউট করেই দলের জয় নিশ্চিত করেন সিরাজ। একদিকে সোয়েটার গায়ে নামা আহত ওকস, অন্যদিকে দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাটকিনসন—মাঠে তখন শুধু উত্তেজনার প্রতিধ্বনি।
চতুর্থ দিনের শেষে খেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল খারাপ আলো এবং বৃষ্টির কারণে। কিন্তু তার আগে ভারতীয় পেসাররা দেখিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরা ম্যাচে ফিরেছেন সম্পূর্ণ শক্তিতে। ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে সিরাজ, প্রসিদ্ধ এবং বুমরাহদের আগুনে বোলিংয়ে।
জো রুটের (১০৫) ইনিংস যতটা স্থায়ী ছিল, তা প্রতিরোধ গড়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। এর আগে হ্যারি ব্রুক (১১১) ফিরে গেলে ভারতের আত্মবিশ্বাসে নতুন জোয়ার আসে।
প্রথম ইনিংসে ভারত করেছিল ২২৪ রান। জবাবে ইংল্যান্ড তোলে ২৪৭। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত করে ৩৯৬ রান, ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৭৪। ওভালের ইতিহাসে এত বড় রান তাড়া করে কখনও জেতেনি কেউ। চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল ২৬৩।
শেষ দিনে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ঘটে গেল সবকিছু। একদিকে অ্যাটকিনসনের ব্যাটে হঠাৎ উড়ে যাওয়া ছয়, অন্যদিকে দমবন্ধ করা ক্যাচ মিস ও রিভিউ নাটক। কিন্তু শেষ হাসি হেসে মাঠ ছাড়ল গিলের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল।
এই জয় শুধুমাত্র ম্যাচ জেতার নয়, বরং টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি ভারতীয় দলের অঙ্গীকার ও কামব্যাক করার মানসিকতারও এক জ্বলন্ত উদাহরণ। রোহিত-বিরাটের পর এক নতুন অধ্যায় শুরু করল ‘নতুন ভারত’।
ক্যাপ্টেন শুভমান গিল এর নেতৃত্বে এই জয় ভবিষ্যতের ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটকে এক নতুন দিশা দিতে পারে, যেখানে প্রতিকূলতা মানেই পরাজয় নয়, বরং তা হল প্রত্যাবর্তনের সুযোগ।







