চট্টগ্রামের এক অভিজাত ক্লাবের গেস্ট হাউস। সোমবার দুপুর গড়াতেই সেখানকার ৩০৮ নম্বর কক্ষ ঘিরে তৈরি হয় রহস্যের মেঘ। কর্মী-আতিথ্যকারীরা উদ্বিগ্ন— সকাল থেকে ঘরের ভেতর কোনও সাড়া নেই। টোকা, ধাক্কা, ডাক— সব ব্যর্থ হয়ে গেলে শেষমেশ দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করা হয়। তাতেই সামনে আসে অপ্রত্যাশিত এক দৃশ্য। বিছানায় নিথর হয়ে পড়ে আছেন দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম হারুন-অর-রশীদ (বয়স ৭৭)।
ঘটনাস্থলে তড়িঘড়ি চিকিৎসকদের ডাকা হয়। তাঁরা এসে নিশ্চিত করেন, এই প্রবীণ সেনাকর্তা আর বেঁচে নেই।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রের খবর, তিনি চট্টগ্রামে এসেছিলেন একটি পুরনো মামলার শুনানির কাজে। গেস্ট হাউসের ওই কক্ষে একাই ছিলেন তিনি। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, হৃদযন্ত্র হঠাৎ বিকল হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তিনি ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যায় দীর্ঘদিন ভুগছিলেন। তাঁর সেনাকর্মজীবন অবশ্য ছিল সংক্ষিপ্ত— ২০০০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০২ সালের জুন পর্যন্ত সেনাপ্রধান ছিলেন এম হারুন। পরে কূটনৈতিক দায়িত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন একাধিক দেশে।
তাঁর মৃত্যুর পর আলোচনায় উঠে এসেছে ডেসটিনি কোম্পানির নাম। জানা যাচ্ছে, ২০০৬ সালে সেই প্রতিষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কয়েক বছর পর কোম্পানির আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০১২ সালে গ্রেফতার হন এম হারুন, পরে জামিন পান। তবে ২০২২ সালে চার বছরের কারাদণ্ডের রায় দেয় আদালত, যদিও তিনি তখন জামিনে মুক্ত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, রবিবার চট্টগ্রামে যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল সেই মামলারই এক শুনানিতে অংশগ্রহণ।
মৃত্যুকে ঘিরে এখন একদিকে যেমন শোক, তেমনই প্রশ্ন— শেষ রাতের নিঃশব্দে কী ঘটেছিল প্রাক্তন সেনাপ্রধানের সঙ্গে?







