নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা (DA) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন স্পষ্ট প্রশ্ন উঠে এল— মহার্ঘভাতা আদৌ কি মৌলিক অধিকার? সেই সঙ্গে শীর্ষ আদালতের তরফে স্পষ্ট বার্তা, “ওঁরা তো আপনাদেরই কর্মী, কোথাও পালিয়ে যাচ্ছেন না। অন্তত কিছু টাকা দিন।” পাল্টা রাজ্যের সাফ জবাব— “১০০ দিনের কাজের টাকাও আমরা পাচ্ছি না কেন্দ্র থেকে। সব আমাদের কোষাগার থেকেই দিচ্ছি।”
আজ, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই বহুল আলোচিত DA মামলার শুনানি শুরু হয়। মধ্যাহ্নভোজ বিরতির পরে শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা রাজ্যের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন— কেন এখনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ মানা হল না? আদালতের পর্যবেক্ষণ, “রাজ্য সরকার অন্তত কিছু টাকা তো মিটিয়ে দিতে পারে।” এই পর্যবেক্ষণের উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী তথা বর্ষীয়ান নেতা কপিল সিব্বল জানান, “বাজারদরের ভিত্তিতে DA দিতেই হবে, এমন কোনও সাংবিধানিক নির্দেশ নেই। এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ আমাদের ধার করতে বাধ্য করছে।”
তিনি আরও জানান, “এই নির্দেশ মানতে গেলে আমাদের RBI থেকে ঋণ নিতে হবে, যা অনুমোদনের জন্য বিধানসভায় বিল পেশ করতে হবে। তাই এখনই সেই টাকা দেওয়া সম্ভব নয়।”
উল্লেখ্য, গত ১৬ মে শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারকে বকেয়া DA-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল, যার সময়সীমা ছিল ছয় সপ্তাহ। কিন্তু সেই সময়সীমা ২৭ জুন পেরিয়ে গেলেও এখনও বকেয়া মেটাতে পারেনি রাজ্য সরকার। বরং তারা আদালতের কাছে আরও ছয় মাস সময় চেয়ে আবেদন জানিয়েছে।
DA কি আদৌ মৌলিক অধিকার? প্রশ্নে ধন্ধ
আজকের শুনানিতে DA আদৌ কি মৌলিক অধিকার, সেই প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক জোরালো হয়। বিচারপতি সঞ্জয় করোল মন্তব্য করেন, “কলকাতা হাইকোর্ট পূর্বে যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল, তা নিয়ে আমাদেরও সন্দেহ রয়েছে।” যদিও DA মামলায় সরকারি কর্মীদের পক্ষে সওয়ালকারী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেন, “DA অবশ্যই মৌলিক অধিকার নয়, তবে তা কর্মচারীদের আইনি অধিকার।”
রাজ্যের যুক্তি: কেন্দ্রীয় হারে DA বাধ্যতামূলক নয়
রাজ্য সরকারের তরফে কপিল সিব্বল বলেন, “DA কোনো মৌলিক অধিকার নয়। রাজ্য নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী ও মূল্যবৃদ্ধির ভিত্তিতে হারে নির্ধারণ করে। কেন্দ্রের হারে DA দিতে রাজ্য বাধ্য নয়।” তিনি যুক্ত করেন, “দেশের ১৩টি রাজ্য কেন্দ্রের সমান হারে DA দেয় না। পশ্চিমবঙ্গও তার সাধ্য মতো DA দেয়।”
রাজনীতির সুর? কেন্দ্র-রাজ্য চাপানউতোর স্পষ্ট
রাজ্য আদালতে স্পষ্ট জানায়, “১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের টাকাও রাজ্যকে কেন্দ্র দিচ্ছে না। অথচ সেই প্রকল্প রাজ্যকে চালিয়ে যেতে হচ্ছে নিজের টাকায়। এর মধ্যে আবার আদালতের নির্দেশ মেনে অতিরিক্ত DA মেটানো সম্ভব নয়।” অর্থাৎ আদালতের পর্যবেক্ষণের পরেও রাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক অবস্থার কারণ দেখিয়ে আপাতত বকেয়া DA মেটানো সম্ভব নয় বলেই সাফ জানিয়ে দেওয়া হল।
শেষ কথা এখনও হয়নি
আজকের শুনানিতে চূড়ান্ত কোনও নির্দেশ আসেনি। তবে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং রাজ্যের অনমনীয় অবস্থান DA মামলাকে আরও জটিল ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল করে তুলল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।







