নবান্নে তারাতলার দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়ার পর সরাসরি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বারুইপুর পুলিশ সুপারের (এসপি) দফতরে গিয়ে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেন। পাশাপাশি, ঘটনার জেরে হওয়া গণপিটুনিতে প্রাণ হারানো যুবকের পরিবারের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা করতেই তাঁর এই সফর। এ সময় রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তও এসপি অফিসে উপস্থিত ছিলেন।
গত রবিবার বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দফায় দফায় বিক্ষোভে পরিস্থিতি ক্রমশ অশান্ত হয়ে ওঠে। নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা হলেন আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবারক সর্দার।
কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীর উদ্দেশে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান এবং ফোনে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলেন। সোমবার তিনি জানিয়েছিলেন, শোকস্তব্ধ পরিবারের প্রশাসনের কাছে করা সমস্ত যৌক্তিক দাবি সরকার পূরণ করবে। সেই প্রতিশ্রুতিরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার তিনি পরিবারের পাশে দাঁড়ান। যদিও তাঁদের আলোচনার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করার কথা রয়েছে তাঁর।
মুখ্যমন্ত্রীর আগমনের আগে থেকেই মঙ্গলবার সকাল থেকে বারুইপুরে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে ওঠে। সকালে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পরে সেখানে পৌঁছায় আরও একটি রাজনৈতিক প্রতিনিধিদল।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধায়ক শিউলি সাহা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। একই সময়ে এনডিএ-সমর্থক তৃণমূলের দুই ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ সায়নী ঘোষ ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারও এলাকায় পৌঁছান। উল্লেখযোগ্যভাবে, যে এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, সেটি সাংসদ সায়নী ঘোষের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষদের দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের ঘিরে প্রতিবাদ শুরু হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরই বারুইপুরে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।







