লোকসভা ভোটের এখনও আট মাস বাকি। তবে ইতিমধ্যেই উত্তাল বাংলা রাজনীতি। ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ ঘিরে নির্বাচন কমিশনকে কার্যত মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বারুইপুর পূর্ব ও ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের দুই ইআরও (Electoral Registration Officer) এবং দুই সহকারী ইআরও-কে বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ ঘিরেই রাজনৈতিক বিতর্ক চরমে।
বুধবার ঝাড়গ্রামের সভামঞ্চ থেকে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“ভোট তো এখনও আট মাস বাকি। এখন থেকেই অফিসারদের ভয় দেখানো শুরু? ক্ষমতা দেখাচ্ছো কার বলে? অমিত শাহর দালালি করছো?”
সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম করে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী। প্রশাসনের কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে মমতা বলেন,
“ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। ওরা তো বসন্তের কোকিল— দু’মাসের জন্য আসে, আবার উড়ে যায়।”
‘বাংলা কারও চোখরাঙানি সহ্য করবে না’
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় চাপ তৈরি করা হচ্ছে ভোটের আগে।
তিনি বলেন,
“খেতে এসো রান্না করে খাওয়াব, কিন্তু নাম কাটতে এলে ঘরে ঢুকতেও দেব না। আমাকে জব্দ করতে এলে, মানুষই তোমাদের স্তব্ধ করে দেবে।”
প্রশাসনিক কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা,
“আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন। মানুষকে পরিষেবা দেওয়া আপনাদের কর্তব্য, আর আপনাদের পাশে থাকা আমাদের কর্তব্য।”
‘জ্যান্ত বাঘ নয়, আহত বাঘ ভয়ঙ্কর’
নিজের বক্তব্যের একেবারে শেষ দিকে আরও তীব্র বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“জ্যান্ত বাঘের থেকে আহত বাঘ অনেক ভয়ঙ্কর। আমাকে আহত করার চেষ্টা করবেন না। অনেক সহ্য করেছি, আর নয়।”
তিনি আরও বলেন,
“ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যদি প্রকৃত বাঙালির নাম বাদ পড়ে, তাহলে আমি আন্তর্জাতিক মঞ্চে গিয়েও কমিশনের মুখোশ খুলে দেব।”
কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, বিজেপি-কমিশন ‘বন্ধনী’তে মমতা
এই ঘটনায় একযোগে বিজেপি ও কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপির রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তিনি সাফ জানান,
“বাংলা মাথা নত করবে না। কেউ ভয় দেখালে চলবে না। মানুষই ঠিক করবে, বাংলা কাকে চায়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘিরে এই রাজনৈতিক তরজা পরবর্তী কয়েক দিনে আরও তীব্র আকার নিতে চলেছে। এর প্রভাব পড়তে পারে রাজ্য-কমিশন সম্পর্কেও।







