ওড়িশার সম্বলপুরে কর্মরত মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল শেখের মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বুধবার রাতে শান্তিনগর এলাকায় মারধরের জেরে গুরুতর আহত জুয়েল পরে হাসপাতালে মারা যান। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বাংলা বলার কারণেই তাঁকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। যদিও ওড়িশা পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, ভাষা বা বাংলাদেশি সন্দেহ নয়—বিড়ি চাওয়া নিয়ে বচসাই এই মৃত্যুর কারণ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জুয়েল শেখ সম্বলপুরে একটি নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আরও কয়েক জন শ্রমিকও ওই প্রকল্পে কাজ করতেন। বুধবার রাতে কাজ সেরে ফেরার পথে তাঁরা ছ’জনের একটি দলের মুখোমুখি হন। অভিযোগ, ওই দলের এক ব্যক্তি বিড়ি চাইলে তা নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয় এবং সেই সময় জুয়েলকে বেধড়ক মারধর করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে সম্বলপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
ওড়িশা পুলিশের নর্দান রেঞ্জের আইজি হিমাংশুকুমার লাল সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানান, “এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছ’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।” তিনি আরও বলেন, নিহত ব্যক্তি বাঙালি না বাংলাদেশি—এই প্রশ্নের সঙ্গে ঘটনার কোনও যোগ নেই। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বিড়ি নিয়ে ঝামেলার জেরেই এই মারধর ও মৃত্যু।
তবে এই ঘটনার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপিশাসিত ওড়িশায় বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পথে নেমেছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে দলের তরফে অভিযোগ করা হয়, “বিজেপির বাংলাবিরোধী প্রচারের প্রত্যক্ষ ফল এই হত্যা। উন্মত্ত জনতা বাঙালি মানেই অনুপ্রবেশকারী মনে করে একজন ভারতীয় নাগরিককে পিটিয়ে খুন করেছে।” তৃণমূলের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরেই বাংলাভাষী ভারতীয়দের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি।
এই অভিযোগের জবাবে ওড়িশা পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে থেকে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কোনও পক্ষপাত করা হবে না।
জুয়েল শেখের মৃত্যুর ঘটনায় এক দিকে যেমন আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ভাষাভিত্তিক বিদ্বেষের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য ও দেশ।







