দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ক্যানিং-জয়নগর সংযোগকারী পিয়ালি নদীর উপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল বৃহস্পতিবার রাতে। এক দশকের বেশি সময় ধরে হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছিলেন এই নড়বড়ে সাঁকোর উপর দিয়েই। দীর্ঘদিন ধরে concrete সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও প্রশাসনিক স্তরে প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই মেলেনি।
পিয়ালি নদী এক সময়ের দাপুটে নদী হলেও বর্তমানে তা অনেকটাই সঙ্কুচিত। তবুও নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য গ্রাম। ক্যানিং, হেড়োভাঙ্গা, বদুকুলা, মেরীগঞ্জ, তিলপি, ধোষা থেকে শুরু করে বারুইপুর, জয়নগর ও কুলতলি— বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যাতায়াতের মূল ভরসা ছিল এই সাঁকো।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে গ্রামবাসীরা নিজেরাই চাঁদা তুলে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাঁশ ও কাঠের এই সাঁকো নির্মাণ করেছিলেন। একাধিকবার নিজেরাই তা মেরামতও করেছেন। তৎকালীন বিধায়ক, সাংসদদের কাছে কংক্রিটের সেতুর জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। আশ্বাসও মিলেছিল। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাতে আচমকাই সাঁকোটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে। যদিও কোনো প্রাণহানির খবর নেই, তবে পরদিন সকাল থেকে নাকাল অবস্থা গ্রামবাসীদের। স্কুল পড়ুয়াদের ঘুরপথে ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার অতিরিক্ত রাস্তা অতিক্রম করতে হচ্ছে। রোগী ও তাঁদের পরিজনের সমস্যাও চরমে।
“চাই কংক্রিট সেতু, নয়তো ভোট বয়কট”— হুঁশিয়ারি গ্রামবাসীদের
এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, তাঁরা আর প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করেন না। এবার চাই স্থায়ী সমাধান— একটি কংক্রিটের সেতু। না হলে আগামী নির্বাচনে ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তাঁরা।
বিধায়কের দাবি: টেন্ডার হয়েছে, কংক্রিট সেতুর জন্য আবেদনও পাঠানো হয়েছে
ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেরাম দাস বলেন,
“সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বদুকুলার পিয়ালি নদীর উপর কাঠের সেতুর জন্য ৩৫ লক্ষ টাকার টেন্ডার ইতিমধ্যে হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পুরনো সাঁকোটি ভেঙে পড়েছে, তবে কোনও প্রাণহানি হয়নি। বিষয়টি মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, যাতে কংক্রিটের সেতু করা যায়। বদুকুলা ছাড়াও ডাবুসহ ক্যানিং এলাকায় মোট চারটি কংক্রিট সেতুর জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে।”
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়— আর কতদিন এমন ‘আশ্বাস’ নিয়ে চলতে হবে সাধারণ মানুষকে?







