জেলা

গঙ্গার স্রোতে মুহূর্তে ভেঙে গেল বাঁধ, দিশেহারা গ্রামবাসী

ভোরের অন্ধকারে হঠাৎই বজ্রপাতের মতো ভেঙে পড়ল গঙ্গার গর্জন। দক্ষিণ চণ্ডীপুরে সদ্য নির্মিত কোটি টাকার বাঁধ কয়েক সেকেন্ডে ভেঙে যায়, তছনছ হয়ে যায় আশপাশের গ্রাম। প্রবল স্রোতে তলিয়ে যায় ফসল, ঘরবাড়ি ও গবাদি পশু। আতঙ্কে ঘুম ভেঙে যায় গ্রামবাসীদের—কারও হাতে শিশু, কারও হাতে শুধু গৃহদেবতার মূর্তি নিয়ে তারা প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে থাকেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র কয়েক মাস আগে এই বাঁধ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। বর্ষার আগে পরীক্ষামূলকভাবে বাঁধের স্থায়িত্ব যাচাই হয়নি, কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। ফলে সামান্য চাপেই বাঁধ ভেঙে বিপর্যয় নেমে এসেছে। পানির তীব্র স্রোত এতটাই ছিল যে, অনেক পরিবার গৃহস্থালির জিনিসপত্র তুলতেই পারেননি।

জলবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েকশো পরিবার। শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নৌকায়। ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে, কিন্তু খাদ্য, বিশুদ্ধ জল ও চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এখনও হয়নি বলে অভিযোগ। এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বাঁধ মেরামতির কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে প্রশাসন, সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে কাজ করছেন। তবে গ্রামবাসীরা বলছেন, এই বিপর্যয়ের দায় এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। বাঁধ ভাঙার ঘটনায় তদন্তের দাবি জোরদার হচ্ছে।

প্রবীণ গ্রামবাসীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এই অঞ্চলে গঙ্গার স্রোত বরাবরই প্রবল, তাই বাঁধের মান নিয়ে আপস বিপজ্জনক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রশ্ন—বাঁধের নামে কোটি টাকা ব্যয় হলো, কিন্তু কয়েক মাসও টিকল না কেন? উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় এখন পুরো এলাকা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.