ডার্বি জয়ের আবেগ ছাপিয়ে এখন ইস্টবেঙ্গল শিবিরে সবচেয়ে বড় খবর—সেমিফাইনালে মাঠে নামতে পারেন প্যালেস্টাইনের মিডফিল্ডার মহম্মদ রশিদ। পিতৃবিয়োগের কারণে তিনি ডার্বিতে ছিলেন না, অথচ গোটা ম্যাচটাই যেন তাঁকে ঘিরেই। সতীর্থরা বলছেন, এই জয় রশিদকে উৎসর্গ করা। শৌভিক চক্রবর্তী যেমন স্পষ্ট জানালেন, “আমরা আজ একসঙ্গে খেলেছি, জিতেছি রশিদের জন্য।” কোচ অস্কার ব্রুজোও বললেন, দলের পরিকল্পনায় রশিদ ছিলেন, না থাকায় অনেক কিছু বদলাতে হয়েছে। তবু তাঁর আশা, সেমিফাইনালে রশিদ ফিরবেন।
গত মরশুমে কলকাতায় দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ডার্বির কঠিন অভিজ্ঞতা হয়েছিল অস্কারের। পরপর দুই ম্যাচে হার। এদিনের জয়ে তাই যেন পুরনো আক্ষেপও মুছে গেল। ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ কোচ বললেন, “গতবার ডার্বিতে ব্যর্থ হয়েছিলাম। এবার সমর্থকদের পাশে নিয়ে সেই আক্ষেপ মিটল। কাল থেকেই সেমিফাইনালের প্রস্তুতি শুরু করব।” তাঁর মন্তব্যেই স্পষ্ট, ডার্বি জয়ের নেশা পেরিয়ে এখন চোখ শেষ চারের লড়াইয়ে।
তবে উদ্বেগ রয়েছে হামিদ আহদাদের চোট নিয়ে। ডার্বির মাঝেই ব্যথা পেয়েছিলেন মরোক্কান স্ট্রাইকার। খবর, চোট গুরুতর নয়, সোমবার পরীক্ষার পর জানা যাবে আসল অবস্থা। সমর্থকদের মনে এখন আশঙ্কা, সেমিফাইনালে এই গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইকারকে পাওয়া যাবে তো? তবু আশার আলো, রশিদকে নিয়েই ঘুরছে ইস্টবেঙ্গল শিবিরের স্বপ্ন।
এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সেমিফাইনালের টিকিট বিক্রি। সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত লাল-হলুদ তাঁবুর বক্স অফিসে মিলবে ইস্টবেঙ্গল গ্যালারির টিকিট। ডায়মন্ডহারবার এফসি সমর্থকদের টিকিট পাওয়া যাবে মহামেডান ক্লাব থেকে। সব আয়োজন শেষ, এখন শুধু অপেক্ষা বুধবারের মহারণের। লাল-হলুদ ভক্তরা বিশ্বাস করছেন—রশিদের ফেরাতেই আরও উজ্জ্বল হবে সেমিফাইনালের লড়াই।







