ভারতের উত্তর-পশ্চিমে পাহাড়ঘেরা আফগানিস্তান ইতিহাস জুড়ে বিদেশি আগ্রাসনের শিকার। ভৌগোলিক অবস্থান তাকে শক্তিধর সাম্রাজ্যের কাছে করে তুলেছিল বাফার স্টেট। উনবিংশ শতকে রাশিয়া ও ব্রিটিশ ভারতের দ্বন্দ্ব, অর্থাৎ “গ্রেট গেম”-এর কেন্দ্র ছিল এই ভূখণ্ড। প্রথম (১৮৩৯) ও দ্বিতীয় (১৮৭৮) অ্যাংলো-আফগান যুদ্ধে ব্রিটিশরা সাময়িক প্রভাব বিস্তার করলেও আফগানরা অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা বজায় রেখেছিল। তবে বৈদেশিক নীতি চলে গিয়েছিল লন্ডনের হাতে। পরিস্থিতি পাল্টায় ১৯১৯ সালে। রাজা আমানুল্লাহ খান সিংহাসনে বসে ঘোষণা করেন যে আফগানিস্তান আর ব্রিটিশ শাসনের অধীনে নয়। শুরু হয় তৃতীয় অ্যাংলো-আফগান যুদ্ধ। মাত্র এক মাসের সংঘর্ষের পর আগস্ট মাসে রাওয়ালপিণ্ডি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ব্রিটিশরা বাধ্য হয় আফগানিস্তানকে পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে। সেই থেকেই ১৯ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।
এ বছর আফগানিস্তান উদযাপন করছে তার ১০৬তম স্বাধীনতা দিবস। তবে শতবর্ষের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দেশটির বাস্তবতা আজও অশান্ত। স্বাধীনতার পর আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নিলেও রক্ষণশীলতার বাধা, ১৯৭৯ সালের সোভিয়েত আগ্রাসন, ১৯৯০-এর দশকে তালিবান শাসন, ২০০১ সালের মার্কিন দখলদারি এবং ২০২১ সালে আবারও তালিবানের প্রত্যাবর্তন—এসব ঘটনায় স্বাধীনতার স্বপ্ন বহুবার বিপর্যস্ত হয়েছে ।বর্তমান আফগানিস্তান নামমাত্র স্বাধীন হলেও মানবাধিকার, বিশেষ করে নারীর অধিকার ভয়াবহ সংকটে। শিক্ষায় ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অর্থনৈতিক দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রক্ষণশীল শাসনব্যবস্থা আজও দেশটিকে আঁকড়ে ধরেছে।
অতএব, আফগানিস্তানের স্বাধীনতা দিবস শুধু ১৯১৯ সালের এক বিজয়ের স্মারক নয়—এটি এক দীর্ঘ প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ এবং এখনও অসমাপ্ত মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাসের প্রতীক।







