বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের সভাপতি শেখ হাসিনা একের পর এক ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে ফের সক্রিয়ভাবে দলের নেতৃত্বে যুক্ত হচ্ছেন। ৬ শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও কৃষক লীগের নেতাদের সঙ্গে ভিন্ন ভাবে আলোচনায় বসেছেন। বৃহস্পতিবার ফের দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের জন্য এই বৈঠকের খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আওয়ামীলীগ। গত বছরের ৫ ই অগস্ট সরকার পতন ও দেশত্যাগের পর থেকে হাসিনার সঙ্গে নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ রেখেছেন। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে বৈঠক করতে পারেননি পদ্ম পারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রক অভিযোগ এনেছিল ভারতের মধ্যে কলকাতা ও দিল্লিতে অফিস তৈরি করে আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ছক কষছে। তবে ভারত সরকার সেই অভিযোগ খারিজ করেছে। ঠিক এরপরেই শেখ হাসিনা নিজের দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করলেন।
২০০৪ সালের ২১ অগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার স্মরণ করা হয় এই বৈঠকে। সেই দিনেই ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লিগের জনসভায় অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন শেখ হাসিনা। তবে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারান এক কানে। প্রাণ হারান দলের বর্ষীয়ান নেত্রী আইভি রহমান সহ ২২ জন নেতা-কর্মী। ওই হামলার নেপথ্যে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের যুক্ত থাকার অভিযোগ করে আওয়ামী লিগ। শেখ হাসিনার দল প্রতি বছর এই বিশেষ দিনকে ‘শোক দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
এই ভার্চুয়াল স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এস কামাল হোসেন ও সুজির রায় নন্দী সহ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মৃণালকান্তি দাস প্রমুখ। সভার সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা নিজেই। এমনকি এই বৈঠক শুধু স্মরণসভা নয়। বরং বলা ভালো এটা আওয়ামী লিগের ভবিষ্যৎ, রাজনৈতিক কৌশল ও ঐক্যেরও ইঙ্গিত বহন করছে।







