কাটোয়া: কৃষিদপ্তরের অনুদানপ্রাপ্ত পাটজমি নিড়ানোর মেশিন পৌঁছনোর কথা ছিল সরাসরি কৃষকদের হাতে। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় কেটে যাওয়ার পরেও সেই মেশিন চাষিদের কাছে না পৌঁছে ভাঙাচোরা সামগ্রীর ব্যবসায়ীর হাতে বিক্রি হয়ে গেল পুরনো লোহার দরে! অভিযুক্ত পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া ২ পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা কুরবান মির্ধার স্ত্রী। ঘটনাটি সামনে আসতেই উত্তেজনা ছড়াল কাটোয়ার সাগরপুর গ্রামে।
রবিবার দুপুরে গ্রামবাসীরা হাতে–নাতে ধরে ফেলেন ভাঙারি ব্যবসায়ী জাকির শেখকে। তাঁর বাইকের ঝুড়িতে একাধিক সরকারি মেশিন দেখতে পেয়েই সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। ব্যবসায়ীর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মুলটি গ্রামের কুরবান মির্ধার বাড়ি থেকেই কেজিপ্রতি ২৫ টাকায় মেশিনগুলি কিনে এনেছেন তিনি। এরপরই গ্রামবাসীরা তাঁকে আটক করে বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেশিনগুলি উদ্ধার করে এবং কুরবান মির্ধা ও ব্যবসায়ী জাকির শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি মেশিন কেন শাসকদলের নেতার বাড়িতে জমা ছিল? কেন সরাসরি কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হল না? কৃষিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কুরবান মির্ধা বলেন, “আমাদের এলাকায় পাটচাষ তেমন হয় না। মেশিনগুলো পরে কৃষকদের দেওয়ার কথা ছিল। ধান রাখার জন্য গোডাউনে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আমার স্ত্রী ভুল করে এগুলো পুরনো লোহার দরে বিক্রি করে ফেলেছেন।” তবে তাঁর এই ব্যাখ্যায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
কাটোয়া ২ ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা সুমনা মণ্ডল জানান, “এই মেশিনগুলি পঞ্চায়েত সমিতি বা গ্রামপঞ্চায়েতের মাধ্যমে কৃষকদের দেওয়ার কথা। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হবে।”
এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে মেশিনগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
কৃষকদের অনুদানের সামগ্রী বাজারে বেচাকেনা হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা কাটোয়া জুড়ে।







