কার্গিল যুদ্ধের নাম শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে তুষার-ঢাকা পাহাড়, সেনাদের সাহস আর দেশের প্রতি অটল ভালবাসা। টাইগার হিল কিংবা বাতালিকের লড়াই আজও ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল। কিন্তু সেই ইতিহাসের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে এমন কিছু নাম, যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন অথচ আমাদের স্মৃতিতে তেমন জায়গা পাননি। তাঁদেরই একজন ক্যাপ্টেন অঞ্জুয় নায়্যার।
১৯৭৫ সালের ২৮ আগস্ট দিল্লিতে জন্ম অঞ্জুয় নায়্যারের। ছোটবেলা থেকেই সেনা জীবনের স্বপ্ন ছিল তাঁর। Army Public School, Dhaula Kuan-এর ছাত্র অঞ্জুয় ভর্তি হন National Defence Academy এবং পরে Indian Military Academy-তে। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি যোগ দেন ১৭ জাট রেজিমেন্টে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করেন দৃঢ় নেতৃত্ব আর দুঃসাহসের জন্য। মাত্র ২৪ বছর বয়সে শুরু হয় কার্গিল যুদ্ধ—যুদ্ধ, যা বদলে দেয় তাঁর জীবন আর মৃত্যুর কাহিনি।
কার্গিলের পাহাড়ে পাকিস্তানি সেনারা একের পর এক বাঙ্কার বানিয়ে বসেছিল। ১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে অঞ্জুয় নায়্যারের কাঁধে আসে শত্রুর দখল করা Pimple Complex পুনর্দখলের দায়িত্ব। প্রবল প্রতিকূলতা—হাড়-কাঁপানো ঠান্ডা, অন্ধকার রাত, পাহাড় বেয়ে ওঠা আর উপরে থেকে আসা শত্রুর গুলি। কিন্তু তবুও তিনি পিছিয়ে যাননি। একে একে ধ্বংস করেন অন্তত চারটি বাঙ্কার। আহত হলেও দমে যাননি, নিজের সৈন্যদের অনুপ্রেরণা দিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। শেষ বাঙ্কার ভাঙার সময় বিস্ফোরণে শহিদ হন তিনি। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে সেই পোস্ট ভারতীয় সেনার হাতে ফিরে আসে।
মরণোত্তর মহাবীর চক্র-এ ভূষিত হলেও ক্যাপ্টেন অঞ্জুয় নায়্যারকে আমরা যতটা মনে রাখার কথা, ততটা রাখিনি। আজ হয়তো তাঁর নাম পাঠ্যবইয়ে নেই, খুব বেশি সংবাদেও উঠে আসে না। অথচ এই শহিদের গল্প প্রমাণ করে—দেশরক্ষার ইতিহাস শুধু বড় বড় জেনারেলদের নয়, বরং সেই অচেনা ক্যাপ্টেনেরও, যিনি জন্মদিনের আগেই নিজের জীবন দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা করেছিলেন। তাঁর নাম উচ্চারণ হয়তো খুব কম, কিন্তু ভারতের মাটি তাঁকে কখনোই ভুলবে না।







