উত্তরাখণ্ডে ফের মেঘভাঙা বিপর্যয়। রুদ্রপ্রয়াগ ও চামোলি জেলায় ভয়াবহ বৃষ্টিপাতে ভেসে গেছে একাধিক গ্রাম। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন বহু পরিবার, আহত হয়েছেন বহু মানুষ। কেদারনাথ উপত্যকা ও আশপাশের এলাকায় নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে চলেছে।
রুদ্রপ্রয়াগের বারেৎ ধুংগার টোক ও চামোলির দেবাল এলাকায় দুটি পৃথক মেঘভাঙার ঘটনা ঘটে। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য। তিনি এক্স-এ লিখেছেন— “সকলের নিরাপদ সুস্থতার জন্য বাবা কেদারের কাছে প্রার্থনা করছি।”
ভয়াবহ পরিস্থিতি রুদ্রপ্রয়াগে
অলকনন্দা ও মন্দাকিনী নদীর জল বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছেছে। কেদারনাথ উপত্যকার লাওয়ারা গ্রামে সড়কের উপর নির্মিত সেতু ভেসে গেছে। চেনাগাড় অঞ্চলেও পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। আবাসিক এলাকায় নদীর জল ঢুকে পড়ায় বহু মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রুদ্রপ্রয়াগের ঐতিহাসিক হনুমান মন্দিরও প্লাবিত।
জেলাশাসক প্রীতেক জৈন জানিয়েছেন, বাসুকেদারে ভারী বৃষ্টিতে চারটি বাড়ি ভেসে গেলেও প্রাণহানির খবর নেই। সকল বাসিন্দাকেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চামোলি ও উত্তরকাশীতে নতুন সঙ্কট
চামোলির দেবাল এলাকায় ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়েছেন বহু মানুষ। গত সপ্তাহেও থারালি এলাকায় মেঘভাঙার জেরে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তুনরি গদেরার তীব্র স্রোতে বহু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এদিকে, উত্তরকাশীর হরশিল উপত্যকায় চলছে ব্যাপক ত্রাণকাজ। গদগদ গদেরার ধ্বংসাবশেষ যমুনা নদীতে অস্থায়ী হ্রদ তৈরি করেছে। জেলা শাসক প্রশান্ত আর্য জানিয়েছেন, “গঙ্গোত্রী যাত্রাপথে কোনও সমস্যা নেই। রাস্তাঘাট মেরামত শেষ হলে যমুনোত্রী যাত্রাও পুনরায় শুরু করা যাবে।”
সতর্ক প্রশাসন
আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা অনুযায়ী রুদ্রপ্রয়াগ, বাগেশ্বর, চামোলি, হরিদ্বার ও পিথোরাগড় জেলার সব স্কুল আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। সীমান্ত সড়ক সংস্থাকে দ্রুত সড়ক মেরামতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রাপথ ফের চালু করা যায়।
এরও আগে মাসের শুরুতে ধরালি এলাকায় মেঘভাঙায় শতাধিক মানুষ নিখোঁজ হন। যদিও সম্প্রতি উত্তরকাশী-হরশিল সড়কে আংশিক যোগাযোগ পুনরুদ্ধার হয়েছে, তবে গঙ্গোত্রী যাত্রা এখনও বন্ধ।
উত্তরাখণ্ডে এই ভয়াবহ মেঘভাঙা আবারও পাহাড়ি রাজ্যের ভঙ্গুর ভৌগোলিক অবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট করল। পাহাড়ি গ্রাম ও তীর্থপথে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অপেক্ষায় এখন গোটা রাজ্য।







