প্রায় ভেঙে ফেলার মুখে চলে গিয়েছিল দাশনগরের শতবর্ষী ডাকঘর। গত বছরের ২৯ অগস্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই ভবনটি অচল হয়ে পড়ে। তার পর থেকেই শুরু হয় প্রোমোটারদের সক্রিয়তা। অভিযোগ, এলাকার কয়েকজন প্রোমোটার ওই ১২ কাঠা জমিতে বহুতল ও শপিং মল নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল। এমনকি ডাক ও তার বিভাগের পক্ষ থেকে এই ডাকঘর স্থানান্তরের জন্য সরকারি নোটিফিকেশনও জারি করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীরা সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই আগুন লাগানো হয়েছিল, যাতে ঐতিহাসিক ভবনটি ভেঙে ফেলার রাস্তা খোলা যায়। স্থানীয় ক্লাব ও পাড়ার বাসিন্দারা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন। তাঁরা দাবি করেন, ‘‘এই ডাকঘরের সঙ্গে আমাদের স্মৃতি, প্রয়োজন আর ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। একে ভাঙতে দেওয়া হবে না।’’ বাসিন্দাদের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করে সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ধাপে ধাপে মেরামত শেষে নতুন রূপে দাঁড়িয়ে যায় দাশনগরের প্রাচীন ডাকঘর।
শুক্রবার ডাক ও তার বিভাগের হাওড়া শাখার আধিকারিকরা উদ্বোধন করেন পুনর্নির্মিত ভবনটির। জানা গেছে, বর্তমানে এই ডাকঘরের উপর নির্ভরশীল গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। প্রবীণরা নিয়মিত এখান থেকে পেনশন তোলেন, আবার চিঠিপত্র, সঞ্চয় প্রকল্প ও অন্যান্য পরিষেবার জন্যও বহু মানুষ এই ডাকঘরের উপর ভরসা করেন। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘প্রোমোটারদের হাত থেকে আমাদের ডাকঘরকে বাঁচাতে পেরে আমরা খুশি। এটা শুধু ভবন নয়, আমাদের ইতিহাসের অংশ।’’







