দেশের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কুডনকুলামকে ঘিরে সামনে এল উদ্বেগজনক তথ্য। সাইবার হামলার জেরে কেন্দ্র-সংক্রান্ত প্রায় ১৯ হাজার নথি হ্যাকারদের হাতে পৌঁছে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে প্রকল্পের কিছু অংশের নকশা, সরবরাহকারী সংস্থার তথ্য, পরিদর্শনের নথি এবং বীমা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিও রয়েছে বলে খবর।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই তথ্য ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করেছে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদার সংস্থা রিলায়েন্স গ্রুপ। সংস্থার দাবি, তাদের একটি তৃতীয় পক্ষের তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষিত সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে হ্যাকাররা কিছু তথ্য হাতিয়ে নেয়। তবে কোন কোন নথি সম্পূর্ণভাবে ফাঁস হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত যেকোনও প্রযুক্তিগত বা অবকাঠামোগত তথ্য ফাঁস হওয়া নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ-এর সিনিয়র ডিরেক্টর নিকোলাস রোথ জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা পারমাণবিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে এবং ঠিকাদারি সংস্থাগুলির সাইবার সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে কুডনকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিট নির্মাণের দায়িত্ব পায় রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার। বর্তমানে নির্মাণকাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ইউনিট দুটি চালু হলে অতিরিক্ত ২,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা যুক্ত হবে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামে পরিচিত একটি আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্র এই তথ্যচুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। অভিযোগ, বিভিন্ন সংস্থার গোপন তথ্য চুরি করে মুক্তিপণ দাবি করাই এই গোষ্ঠীর মূল কৌশল। দাবি পূরণ না হলে চুরি হওয়া তথ্য ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করে দেওয়া হয়। বিশ্বের একাধিক বড় সংস্থা, এমনকি প্রযুক্তি শিল্পের শীর্ষ কোম্পানিগুলিও অতীতে এই গোষ্ঠীর নিশানায় ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগত ও সংবেদনশীল প্রকল্পগুলির তথ্য সুরক্ষায় আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।







