আহমেদাবাদের মণিনগরের সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে ১৯ আগস্ট ঘটে যাওয়া ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে ঘিরে গোটা রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ক্লাস টেনের এক ছাত্র সহপাঠীকে ছুরি মেরে আহত করে। হামলাকারী একজন হিন্দু, অপরজন মুসলিম হওয়ায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো মুহূর্তেই ঘটনাটিকে ধর্মীয় সংঘাতে রূপ দেয়।
পরদিন বাজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মীরা শতাধিক মানুষ নিয়ে স্কুলের বাইরে বিক্ষোভ দেখায়, যা ভাঙচুরে পরিণত হয়। অভিভাবকদের একাংশও ক্ষোভে ফেটে পড়ে দাবি তোলে—স্কুলে মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি বন্ধ হোক। এমনকি সব মুসলিম পড়ুয়াকে ‘স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট’ দিয়ে বিদায় করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় কর্তৃপক্ষের ওপর।
মাত্র দু’দিন পর ভাদালির সি. জে. হাই স্কুলেও একই ঘটনা: দুই ছাত্রের ঝগড়াকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে আন্দোলন হয়, বনধ ডাকা হয়, আর সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের বহিষ্কারের দাবি ওঠে। এ বছরের শুরুতেও ওই স্কুলেই এক মুসলিম ছাত্রকে শিক্ষক মারধরের অভিযোগ উঠে, যা এখনো শিক্ষার্থীদের মনে আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে।
মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ—ছাত্রদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে পদ্ধতিগতভাবে “হিন্দু বনাম মুসলিম” সংঘাতে পরিণত করা হচ্ছে। এতে শিশুদের শৈশবেই বিভক্ত করা হচ্ছে, আর স্কুল পরিণত হচ্ছে আদর্শগত সংঘাতের মঞ্চে। পুলিশও অনেক সময় নীরব থেকে কার্যত এই উসকানিকে বৈধতা দিচ্ছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, যেখানে স্কুলের কাজ হওয়া উচিত সহনশীলতা শেখানো, সেখানে তৈরি হচ্ছে ভয়, বঞ্চনা আর ঘৃণার সংস্কৃতি। এর ফলে ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।







