বৃহস্পতিবার থেকে চলা ওয়াশিংটন-স্তরের আলোচনায় উঠে এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ইউক্রেনকে লড়াইয়ে শক্তি যোগাতে ভেবছে—তাই কীভাবে এবং কার মাধ্যমে টমাহক ধরনের দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা যেতে পারে তা নিয়ে বিবেচনা চলছে। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভান্স জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনে এখনই বিষয়টি “বিচার করা হচ্ছে” এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
পেন্টাগনের নজরে থাকা রিটায়ার্ড লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেথ কেলগের মন্তব্যের সূত্র ধরে রিপোর্টগুলো বলছে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছু সময় আগেই দীর্ঘ-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনকে আত্মরক্ষার সুযোগ দিতে সম্মতি দিয়েছেন বলে নির্দেশক সঙ্কেত পাওয়া গেছে; তবু সরিয়ে দেওয়া চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। এই বিষয়টিই আলোচনায় নতুন উত্তাপ যোগ করেছে।
টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র—প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী—প্রায় ১,৫৫০ মাইল (প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার) পর্যন্ত লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম, অর্থাৎ এটি ইউক্রেন থেকে মস্কো-সহ রাশিয়ার অন্তঃস্থলীয় লক্ষ্যভিত্তা বানাতে সক্ষম হতে পারে—এই ক্ষমতা স্থানীয়ভাবে সংঘাতকে বড়ভাবে বদলে দিতে পারে এমনকি রাজনৈতিক ও সামরিক পরিধিতেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ওয়াশিংটনে আরও আলোচনা হচ্ছে—টমাহক সরাসরি আমেরিকা থেকে ইউক্রেনে দেওয়া হবে কি না, নাকি ইউরোপীয় কোনো দেশ যাতে ‘মধ্যস্থ’ ভূমিকা নেয় সেভাবে সরবরাহ করা হবে—এ ধরনের অপশনও যাচাই করা হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্স বলেছে, ইউরোপিয়ান অংশগ্রহণ থাকবে—এভাবে “ইউরোপীয়রা খেলায় অংশ নেবে” বলে কিছু কূটনীতিক ভাবনা চলছে।
রাশিয়া—ক্রেমলিন দ্রুতই পাল্টা সুর দিয়েছে। মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের হাতে পৌঁছে যায়, তাহলে আঘাত চালাবে কে—ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী নাকি আমেরিকার সৈন্য? রুশ কর্তৃপক্ষ বারবার জানিয়েছে, কোনো যুক্তরাষ্ট্রি-সহায়তায় সরাসরি রাশিয়ার উপর আঘাত করা হলে তা ‘দূরগামী পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে এবং প্রত্যাঘাতের হুমকি তোলা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন—টমাহক সরবরাহ করলে তা যুদ্ধের গতি বদলে দিতে পারে; কিন্তু একই সঙ্গে তা বড় মাত্রার উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য বহির্গামী অনুসন্ধান—উভয়ই বাড়িয়ে তুলতে পারে। রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া, ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া এবং ইউরোপীয় সমর্থকের অবস্থান—এসব মিলিয়ে নিরাপত্তা ও কূটনীতিক ঝুঁকি নিখুঁতভাবে মাপা লাগবে।
ওই সংবাদেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্রগুলো—রয়টার্স, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, সিবিএস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ার প্রতিবেদনে এ বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান আলোচনা ও রুশ বিবেচনার দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এসব সূত্র বলছে—টমাহক দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলেও বিষয়টি এখন ট্রাম্প-হোয়াইট হাউসের অ্যাজেন্ডায় শীর্ষে উঠে এসেছে।
টমাহক দিতে হলে ইউক্রেনের আক্রমণক্ষমতা রাশিয়ার গভীর অঞ্চলে পৌঁছাবে—এতে যুদ্ধীয় টানাপোড়েন বেড়ে যায়।
আমেরিকা কীভাবে সরবরাহ করবে—সরাসরি করা হবে নাকি তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে—এটাই কূটনৈতিক মোকাম নির্ধারণ করবে।
মস্কো সরাসরি এবং তীব্রভাবে পাল্টা হুমকি জানাচ্ছে—এই বিবেচনায় বড় পরিণতির সম্ভাবনা রয়েছে।







