বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোমর বেঁধে প্রস্তুতি শুরু করল বিজেপি। সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশিত হল দলের প্রথম প্রার্থি তালিকা। যেখানে নাম রয়েছে ৭১ জন প্রার্থীর। বিজেপির এই প্রথম প্রার্থী তালিকায় থাকছে বহু চমক।
এবারের নির্বাচনে উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি তাঁর পারিবারিক আসন তারাপুর থেকে ভোটের ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন। অতীতে তাঁর বাবা শকুনি চৌধরি ও মা পার্বতী দেবী দু’জনেই এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। বর্তমানে সম্রাট বিহারের বিধান পরিষদের সদস্য রয়েছেন। তবে এবার তিনি বিধানসভা ভোটে লড়াই করতে চলেছেন। ২০২১ সালের উপনির্বাচনেও জেডিইউ এখান থেকে জয়লাভ করলেও এবারের আসন সমঝোতায় ওই কেন্দ্র বিজেপির হাতে ছাড়ছে জেডিইউ।
অন্যদিকে উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয়কুমার সিংহ তাঁর পুরনো আসন লখীসরায় থেকে প্রার্থী হচ্ছেন। ২০১০ সালে টানা ৩ বার এখান থেকে জয়ী হয়েছেন। যার ফলে এই ভোট তাঁর প্রার্থি থাকবে সেটাই দলের অন্দরে প্রত্যাশিত ছিল। প্রথম তালিকায় বড় চমক এসেছে নন্দকিশোর যাদবকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে। তিনি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে পটনা সাহিবের বিধায়ক। পাশাপাশি বাদ পরেছে বিধানসভার স্পিকার। তবে এবারে ওই কেন্দ্র থেকে বিজেপি টিকিট দিয়েছে নতুন মুখ রত্নেশ কুশওয়াহাকে। তাই দলে অন্ধকারে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
কাটিহার থেকে প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তারাকিশোর প্রসাদ, দানাপুর থেকে রামকৃপাল যাদব, গয়া থেকে প্রেম কুমার, সিওয়ান থেকে মঙ্গল পান্ডে ও সহরসা থেকে অলোকরঞ্জন ঝা-কে প্রার্থী করেছে দল। যার মাধ্যমে বিজেপি অভিজ্ঞ ও নবীন মুখের সংমিশ্রণে লড়াইয়ে নামছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সমাজমাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন সম্রাট চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে এনডিএ জোট বেঁধে এই নির্বাচনে লড়াই করতে চলেছে। বিহারের ২৪৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ও জেডিইউ সমানভাবে ১০১টি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। চিরাগ পাসোয়ানের দল এলজেপি লড়বে ২৯টি আসনে। এছাড়াও জিতনরাম মাঝীর হিন্দুস্থানি আওয়াম মোর্চা ও উপেন্দ্র কুশওয়াহার রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা প্রার্থী দেবে ৬টি করে আসনে। রবিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ঘোষণা করেন এই আসন সমঝোতার বিষয়।
এবার বিহারে ভোট হবে দু’দফায়। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে ৬ই নভেম্বর ১২১টি আসনে। সেই দফার গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে ১০ই অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে ১৭ই অক্টোবর পর্যন্ত, যাচাই হবে ১৮ই অক্টোবর ও প্রার্থীরা নাম প্রত্যাহার করতে পারবেন ২০ শে অক্টোবর পর্যন্ত। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হবে ১১ই নভেম্বর পর্যন্ত। এভাবেই ১২২টি আসনে চলবে বোট গ্রহণ। দ্বিতীয় দফার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে ১৩ই অক্টোবর, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৩ শে অক্টোবর। ভোটের ফলাফল বেরোবে ১৪ই নভেম্বর।এই তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে গেরুয়া শিবির বুঝিয়ে দিল নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সঙ্গী হয়ে নির্বাচনের লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।







