দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের তরুণী ছাত্রীকে ধর্ষণের দেখা গেল। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত সহপাঠীর পক্ষে আদালতে সওয়াল করতে সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান জানাল স্থানীয় দুর্গাপুর বার অ্যাসোসিয়েশন। এর আগে এই জঘন্য অপরাধে ধৃত আরও পাঁচজনের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবব্রত সাঁই কঠোরভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এমন জঘন্য অপরাধের অভিযুক্তদের হয়ে এই আদালতে কোনো আইনজীবী লড়বেন না, যা সাধারণ মানুষ এবং ছাত্রছাত্রীদের ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রতিবাদের ঢেউ এনেছে।
গত ১০ অক্টোবর রাতে কলেজ চত্বরে দ্বিতীয় বর্ষের ওই ডাক্তারি ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরপরই পুলিশ একে একে পাঁচজন বহিরাগতকে গ্রেফতার করে। সর্বশেষ গ্রেফতার হওয়া এই সহপাঠীকে প্রথমে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৮টা নাগাদ তরুণী কলেজের গেট দিয়ে বের হচ্ছেন এবং রাত ৯টার দিকে ওই সহপাঠীর সঙ্গে ফের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন। মঙ্গলবার নির্যাতিতা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তাঁর জবানবন্দি দেন। এরপরই পুলিশ ওই সহপাঠীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে এবং তাকে গ্রেফতার করে। ইতিমধ্যে পাঁচজন অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং তদন্তকারীরা এখন সেই রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন।
পুলিশের সন্দেহ অন্য দিকে
এদিকে, এই ঘটনার তদন্তে নতুন মোড় এনেছেন দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার সুনীল চৌধুরী। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, তাঁকে একজন ধর্ষণ করেছে। বাকিদের ভূমিকা কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” একইসঙ্গে পুলিশ এই সহপাঠীকে নিয়ে আরও বড় অভিযোগের সম্ভাবনা দেখছে। পুলিশের সন্দেহ, সহপাঠী যুবক প্রথমে তরুণীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছিল এবং নির্যাতিতা কোনো কারণে বারবার সেই ঘটনাটি লুকোতে চেয়েছেন। এই নতুন দিকটি সামনে আসায় তদন্তের গতিপথ এখন আরও জটিল।







