রাজ্য

রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকা কীভাবে দেখবেন? নাম না থাকলে কী করবেন?

রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের আগে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হতে চলেছে খসড়া ভোটার তালিকা। এই তালিকা দেখা যেতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অ্যাপে। কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, প্রায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩১ জন ভোটারের নাম এই খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা মারা গেছেন, অন্য কোথাও চলে গেছেন, নিখোঁজ হয়েছেন অথবা যারা ভোটার হওয়ার জন্য এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেননি, তারা বাদে বাকি সকলের নামই এই তালিকায় থাকার কথা।
নির্বাচন কমিশন রাজ্যের প্রতিটি ভোটারকে অনুরোধ করেছে, তালিকাটি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন তারা নিজ নিজ নাম যাচাই করে নেন। নাম দেখার জন্য অনলাইন এবং অফলাইন উভয় পদ্ধতিই ব্যবহার করা যাবে।

অনলাইনে নাম জানার সহজ উপায়

কমিশনের অ্যাপ: সবচেয়ে সহজ উপায় হলো কমিশনের ‘ইসিআইএনইটি’ অ্যাপ ব্যবহার করা। অ্যাপটি খোলার পর সবুজ রঙের একটি বক্সে লেখা থাকবে ‘সার্চ ইয়োর নেম ইন ভোটার লিস্ট’। সেখানে ক্লিক করে ‘সার্চ বাই ভোটার আইডি/এপিক’ অপশনটি বেছে নিতে হবে। তারপর আপনার ভোটার আইডি বা এপিক নম্বর দিলেই জানা যাবে তালিকায় আপনার নাম আছে কিনা।

ওয়েবসাইট: এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের প্রধান ওয়েবসাইট (eci.gov.in) অথবা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (ceowestbengal.wb.gov.in) ওয়েবসাইটে গিয়েও নাম যাচাই করা যাবে। ওয়েবসাইটে ‘ইলেকটরস’ বা ‘সার্চ ইয়োর নেম ইন ইলেক্টোরাল রোল’ অপশনে ক্লিক করে এপিক নম্বর, রাজ্য ও ভাষা (বাংলা) নির্বাচন করে ক্যাপচা কোড পূরণ করে সার্চ করলেই তথ্য পাওয়া যাবে। জেলার নিজস্ব নির্বাচনী আধিকারিকদের ওয়েবসাইটেও তালিকা দেখা যেতে পারে।

অফলাইনে নাম দেখার পদ্ধতি:-

খসড়া তালিকা প্রকাশের দিন রাজ্যের সকল বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-এর কাছে এর হার্ড কপি থাকবে। ভোটারেরা নিজেদের এলাকার BLO-এর কাছে গিয়ে সহজেই নাম যাচাই করে নিতে পারবেন। এছাড়াও রাজ্যের স্বীকৃত আটটি রাজনৈতিক দলকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে তালিকার ‘সফ্‌ট কপি’ দেওয়া হবে। তাদের বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA)-এর কাছেও ভোটাররা এই তথ্য জানতে পারবেন।
যদি কোনো ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় না থাকে, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এক্ষেত্রে ফর্ম ৬-এর অ্যানেক্সার ৪ পূরণ করে জমা দিতে হবে। ১৭ই ডিসেম্বর থেকে এই সংক্রান্ত শুনানি শুরু হবে। তবে সকলকে শুনানিতে ডাকা হবে না। শুধুমাত্র যারা ২০০২ সালের সঙ্গে ২০২৫ সালের তথ্যের মিল খুঁজে পাননি, এবং যাদের জমা দেওয়া তথ্যে কোনো ভুল বা ত্রুটি ধরা পড়েছে, কেবল তাদেরই শুনানিতে ডাকা হবে। শুনানির নোটিস ফোন, এসএমএস বা স্পিড পোস্টে নয়, বরং বিএলও বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেবেন। এনুমারেশন ফর্মে যারা ২০০২ সালের অংশটি পূরণ করতে পারেননি, তাদের সবাইকে শুনানিতে ডাকা হবে বলে কমিশন জানিয়েছে।

শুনানির সময় আধার কার্ড ছাড়াও মোট ১১টি বিকল্প নথি গ্রহণযোগ্য হবে, যার মধ্যে কমপক্ষে একটি নথির মূল কপি আপনাকে নিয়ে যেতে হবে। সেগুলি হলো:

১. কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসাবে কাজ করেছেন বা পেনশন পান এমন পরিচয়পত্র।
২. ১৯৮৭ সালের ১লা জুলাইয়ের আগের ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, LIC বা স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া কোনো নথি।
৩. জন্ম শংসাপত্র (বার্থ সার্টিফিকেট)।
৪. পাসপোর্ট।
৫. মাধ্যমিক বা তার পরের শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট।
৬. রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের সার্টিফিকেট।
৭. ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট।
৮. জাতিগত সার্টিফিকেট।
৯. স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া ফ্যামিলি রেজিস্টার।
১০. সরকারের দেওয়া ল্যান্ড বা হাউস অ্যালটমেন্ট সার্টিফিকেট।
১১. জাতীয় নাগরিকপঞ্জী (শুধুমাত্র আসামের ক্ষেত্রে)।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.