রবিবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ লস অ্যাঞ্জেলেসের নিজস্ব বাসভবন থেকে খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক রব রাইনার ও তাঁর স্ত্রী মিশেল সিঙ্গার রাইনারের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে দু’জনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অনুমান। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের ৩২ বছরের পুত্র নিক রাইনারকে। জামিন অযোগ্য ধারায় তাঁকে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।
কেন ছেলের দিকেই ঘুরছে সন্দেহের তীর? আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মৃত্যুর ঠিক আগের দিন একটি পারিবারিক পার্টিতে নিকের সঙ্গে তাঁর মা-বাবার তীব্র ঝগড়া হয়েছিল। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী প্রশাসনকে জানিয়েছেন, তিনি ওই কলহের সাক্ষী ছিলেন। যদিও ঝগড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনার পর থেকেই নিক পুলিশের নজরে ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর নিককে দ্রুত আটক করা হয় এবং বর্তমানে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দফতরে মঙ্গলবার মামলাটি তোলা হবে। সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত বাদী ও বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের সুযোগ পাবেন।
প্রসঙ্গত, নিক রাইনার নিজেও একজন নব্য পরিচালক। তাঁর জীবন নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে। শোনা যায়, এক সময় নিউ জার্সি ও টেক্সাসে গৃহহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। অতীতে মাদকাসক্তি ও ভবঘুরে জীবনের কথাও প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন নিক। বাবার ছবি ‘বিইং চার্লি’-তে সহযোগী লেখক হিসেবে কাজ করেন তিনি, যেখানে মাদকাসক্তি ও মানসিক অস্থিরতার গল্প উঠে আসে।
এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। রাইনার পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “রব ও মিশেলের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এই কঠিন সময়ে আমরা সকলের কাছে ব্যক্তিগত পরিসর কামনা করছি।”
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে শেষ পর্যন্ত সত্য কী, তা জানতে এখন তাকিয়ে তদন্তের দিকেই।







