বিনোদন

ভুয়ো ‘গ্রেফতার’ ভিডিও ঘিরে তোলপাড়, প্রিন্স নরুলাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি

নতুন কোনও রিয়্যালিটি শোয়ের বিচারকের আসনে বসতে চলেছেন কি তিনি? নাকি আবারও কোনও জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো জয়ের পথে হাঁটছেন?—এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ‘বিগ বস ৯’ ও ‘এমটিভি রোডিজ এক্স ২’-এর বিজয়ী প্রিন্স নরুলা।

৮ জানুয়ারি আচমকাই নেটদুনিয়ায় ব্যাপকভাবে ট্রেন্ড করতে শুরু করেন প্রিন্স নরুলা। তবে এই আলোচনার নেপথ্যে কোনও নতুন প্রজেক্ট নয়, বরং একটি বিতর্কিত ও ভুয়ো ‘গ্রেফতার’ ভিডিও।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়, দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন প্রিন্স নরুলা। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং অনুরাগীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে খুব দ্রুতই বিষয়টির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর একাধিক নেটিজেন দাবি করেন, প্রিন্স নরুলার গ্রেফতারের কোনও ঘটনা ঘটেনি। অনেকেই এটিকে সরাসরি ভুয়ো খবর বলে চিহ্নিত করেন। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘গ্রোক’-এর মাধ্যমে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হয়।

গ্রোক-এর তরফে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কোনও প্রথম সারির বা বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমেই প্রিন্স নরুলার দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার কোনও খবর প্রকাশিত হয়নি। গ্রোকের মতে, ভিডিওটিতে ব্যবহৃত দৃশ্যগুলি সম্পাদিত এবং বাস্তব কোনও ঘটনার সঙ্গে তার মিল নেই।

গ্রোকের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়,
“সাম্প্রতিক খবর যাচাই করে দেখা গিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দিল্লি পুলিশের হাতে প্রিন্স নরুলার গ্রেফতারের কোনও প্রমাণ নেই। ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং যাচাইযোগ্য কোনও সত্য ঘটনার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।”

উল্লেখ্য, ভুয়ো এই ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে ‘Rahul143043’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়। আপলোড হওয়ার পরই ভিডিওটি প্রায় ১১ হাজারের বেশি ভিউ পায়। ক্যাপশনে লেখা ছিল, “দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার প্রিন্স নরুলা! #প্রিন্স নরুলা-এর বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা দায়ের।”

ভিডিওটি ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়। একজন মন্তব্য করেন, “এটা সম্পূর্ণ ভুয়ো, এডিট করা ভিডিও।” আরেকজন লেখেন, “অনুগ্রহ করে এই ভিডিও ডিলিট করুন। এভাবে ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো অনুচিত।”

সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রিন্স নরুলাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত ‘গ্রেফতারের নাটক’-এর কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। এই ঘটনা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—ভাইরাল হলেই কোনও তথ্য সত্য হয়ে যায় না। যাচাই না করে খবর বিশ্বাস করাই আজকের ডিজিটাল যুগে সবচেয়ে বড় বিপদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.