আসন্ন আইএসএল (ISL) নিয়ে জট যেন কাটতেই চাইছে না। গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য ঘটা করে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকেই বল গড়াবে মাঠে। সেই বৈঠকে ক্লাবগুলো খেলতে রাজি হলেও, ওড়িশা এফসি-র কাছে একটা লিখিত নিশ্চয়তা চেয়েছিল ফেডারেশন। শুক্রবার ছিল সেই ডেডলাইন, কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ওড়িশার পক্ষ থেকে কোনো চিঠি এসে পৌঁছায়নি। বরং তারা আগামী সোমবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছে। ফলে ওড়িশা আদৌ খেলবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেল।
তবে কেবল ওড়িশা নয়, বাকি ক্লাবগুলোর অন্দরেও এখন অস্থিরতা চরমে। সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘অবনমন’ বা রেলিগেশন। ফেডারেশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার লিগের শেষে পয়েন্ট তালিকায় নিচে থাকা দলকে আই-লিগে নেমে যেতে হবে। ক্লাবগুলো আশা করেছিল, বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ফেডারেশন হয়তো আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এবারের মতো অবনমন বন্ধ রাখার আর্জি জানাবে। কিন্তু ফেডারেশন উল্টে দায় ঠেলে দিয়েছে ক্লাবগুলোর ঘাড়েই। তাদের বক্তব্য, ক্লাবগুলোই বরং আদালতে গিয়ে রেলিগেশন বন্ধের দাবি তুলুক। ফেডারেশনের এই দায়সারা মনোভাব অনেক ক্লাবই মেনে নিতে পারছে না।
আর্থিক বিষয় নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। ঠিক হয়েছে, লিগ চালানোর জন্য প্রতিটি ক্লাব ১ কোটি টাকা করে ফেডারেশনকে দেবে। অর্থাৎ ১৪টি ক্লাব মিলিয়ে মোট ১৪ কোটি টাকা। অথচ সম্প্রচারের কাজের জন্য খরচ ধরা হয়েছে সাড়ে ৯ কোটি টাকা। ক্লাবগুলোর সোজাসাপ্টা প্রশ্ন যদি খরচ সাড়ে ৯ কোটিই হয়, তবে বাকি সাড়ে ৪ কোটি টাকা ফেডারেশনকে কেন বাড়তি দেওয়া হবে? এই টানাটানির বাজারে নিজেদের পকেট থেকে এত টাকা দিতে রাজি নয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, অনেক ক্লাবই এখন ফুটবলারদের বেতন কমানোর কথা ভাবতে শুরু করেছে। স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলাররা এতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নামী বিদেশি ফুটবলার ভারতের লিগ ছেড়ে অন্য দেশের ক্লাবে সই করেছেন। সোমবার ওড়িশা এফসি তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর পর বোঝা যাবে যে, ক্রীড়ামন্ত্রীর আশ্বাস সত্ত্বেও আইএসএল-এর আকাশ থেকে কালো মেঘ আদেও কাটল কি না।







