নিজস্ব সংবাদদাতা | নয়াদিল্লি/কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ল। সোমবার শীর্ষ আদালত স্ক্রুটিনি পর্বের জন্য অতিরিক্ত সাত দিন সময় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নথি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইআরও-দের (AERO) হাতেই। এই প্রক্রিয়ায় মাইক্রো অবজার্ভারদের কোনও সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত।
এই নির্দেশের ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের নির্ধারিত সূচি পিছিয়ে গেল। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত সময় মঞ্জুর হওয়ায় এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। তার পরবর্তী সাত দিন, অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে স্ক্রুটিনি। ফলে আগে ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ১৪ ফেব্রুয়ারিতে ভোটার তালিকা প্রকাশ আর সম্ভব হচ্ছে না।
কমিশন সূত্রের ইঙ্গিত, ২১ ফেব্রুয়ারিতেও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ নাও হতে পারে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইআরও-রা কাজ শেষ করার পর সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসাররা (DEO) তা মূল্যায়ন করবেন। তার পরে সিইও দফতর পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশনের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠাবে। সমস্ত ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরেই কমিশন ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। ফলে চূড়ান্ত তালিকা ২১ ফেব্রুয়ারির পরেই প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
উল্লেখ্য, দেশের একাধিক রাজ্যে এসআইআর-এর এনুমারেশন পর্বের সময়সীমা বাড়ানো হলেও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই সোমবার দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলে। শুনানিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও রকম বাধা বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি কমিশনের কাজের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির ফারাক রয়েছে বলেও মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত।
এদিন সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল ঘিরে ওঠা বিতর্কেও স্পষ্ট অবস্থান নেয় শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত পর্যবেক্ষণে জানান, মুখ্যমন্ত্রীর এই সওয়াল সংবিধানের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাসেরই প্রকাশ। আদালতের ভাষায়, “এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
প্রসঙ্গত, এসআইআর মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগতভাবে সওয়াল করাকে ‘সাংবিধানিক ভাবে অনুচিত’ দাবি করে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার তরফে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই সোমবার এই মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত।







