ক্রিকেটের চেনা পরিসর ছাড়িয়ে এবার নতুন দিগন্তে পা রাখতে চলেছে ভারতীয় দল। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর জাপানের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে ভারত। তোচিগি প্রিফেকচারের সানো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ‘সুজুকি কাপ’-এর এই ম্যাচে প্রথমবার ক্রিকেট মাঠে মুখোমুখি হবে দুই দেশ। ভারত ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষেও এই ম্যাচের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ক্রিকেটকে বিশ্বের আরও বেশি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ম্যাচকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবেই দেখছেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া।
সাইকিয়ার বক্তব্য, “২২ সেপ্টেম্বরের ভারত-জাপান টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি জাপানে ক্রিকেটের প্রসারে একটি বিশেষ সুযোগ তৈরি করবে। নতুন দর্শকদের সঙ্গে এই খেলাটির যোগসূত্র গড়ে উঠবে। পাশাপাশি এশিয়ার এই অংশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাও আরও বাড়বে।” ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছেন তিনি।
এদিকে, জাপানের নাগোয়ায় বসতে চলেছে এশিয়ান গেমসের আসর। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। ২৪ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযান শুরু করবে জাপান। অন্যদিকে, সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পাওয়ায় ভারতের প্রথম ম্যাচ ২৮ সেপ্টেম্বর। ফলে এশিয়ান গেমস শুরুর আগে জাপানের বিরুদ্ধে এই ম্যাচ দুই দলের ক্রিকেটারদেরই প্রস্তুতির বাড়তি সুযোগ করে দিতে পারে।
বর্তমানে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা বিশ্বকাপজয়ী ভারত এশিয়ান গেমসেও অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন শ্রেয়স আইয়ার, সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে তিলক বর্মা। ভারতীয় দলে রয়েছেন সঞ্জু স্যামসন এবং তরুণ প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীও। অন্যদিকে, বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৪১ নম্বরে রয়েছে জাপান। তবে এই ব্যবধানের মধ্যেও ম্যাচটির গুরুত্ব আলাদা। সাইকিয়ার কথায়, “ভারত-জাপান ম্যাচকে শুধু ক্রিকেট ম্যাচ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর মধ্যে দিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের বিস্তারের ছবিটাই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ক্রিকেট এখন আর শুধু বিশ্বায়নের লক্ষ্য স্থির করে এগোচ্ছে না, বিশ্বের নানা প্রান্তে বাস্তবিকই নিজের ভিত গড়ে তুলছে।”
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ‘স্পোর্ট ৭৫’ নামে একটি চুক্তিতে সই করেছেন। সেই উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসাবেই আয়োজন করা হচ্ছে ভারত-জাপান টি-টোয়েন্টি ম্যাচের। খেলাধুলার মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বার্তাও তুলে ধরেছেন দুই রাষ্ট্রনেতা। একইসঙ্গে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক আয়োজনের দাবিতে ভারতকে সমর্থনের কথাও জানিয়েছে জাপান।







