কলকাতা

চোরবাগান কাণ্ডে সিটের তদন্ত শুরু, ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল; বিভ্রান্তিকর ঘোষণার নেপথ্যে কে, খোঁজ পুলিশের

চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নেমেছে রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। বৃহস্পতিবার প্রথমবার ঘটনাস্থলে পৌঁছন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফরেনসিক দলও। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখেন তাঁরা। তদন্তকারীদের সঙ্গে ছিল থ্রি-ডি স্ক্যানার।

মণ্ডপে কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার পথ কতটা প্রশস্ত ছিল, ঠিক কোন পরিস্থিতিতে মণ্ডপ ভেঙে পড়ার মতো বিভ্রান্তিকর ঘোষণা মাইকে করা হয়েছিল—সমস্ত বিষয়ই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী মণ্ডপে ঢোকার পর পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তা বোঝারও চেষ্টা করছেন সিটের সদস্যরা।

এরই মধ্যে মাইকে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা করার অভিযোগে এক ক্লাব সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। সেন্টু নামে ওই ব্যক্তিকে নদিয়া থেকে আটক করা হয়েছে। কার নির্দেশে তিনি ওই ঘোষণা করেছিলেন, তা জানতে লালবাজারে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

চোরবাগানের ঘটনায় সিট গঠনের পর বৃহস্পতিবারই প্রথম ঘটনাস্থলে যায় তদন্তকারী দল। জানা যাচ্ছে, সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা সিটের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর।

সংবাদমাধ্যমের সামনে সিটের প্রধান জানিয়েছেন, তিন মাসের মধ্যে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট দেওয়া যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। তাঁর কথায়, “তদন্ত করে ৩ মাসে রিপোর্ট দেওয়াটা চ্যালেঞ্জিং। তবে করতেই হবে।” কী কারণে ১৯ জনের মৃত্যু হল, তা খুঁজে বার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে এবং ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেটিই তদন্তের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

চোরবাগানের দুর্ঘটনার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, হাই কোর্টের কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তকারী দল গঠন করা হবে। এরপর মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেন। পরে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট।

সেই নির্দেশ মেনেই রাজ্য সরকারের তরফে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে গঠিত এই দলে রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দফতরের সচিব, স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিজি ও আইজি। এছাড়াও রয়েছেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্য, স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিনিধি এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রতিনিধি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.