রাজনীতি

Big Breaking: মুর্শিদাবাদে ‘ছাগল বনাম বলদ’ রাজনীতি! ৫০ আসনে নতুন দল নিয়ে নামছেন হুমায়ুন

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক বিস্ফোরক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ১৫ অগাস্টের পর নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার কথা ঘোষণা করলেন তিনি। মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া— এই চার জেলার প্রায় ৫০টি আসনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হুমায়ুন।

তাঁর দাবি, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর কোনও ক্ষোভ নেই। কিন্তু ক্ষোভ রয়েছে জেলা নেতৃত্বের উপর। অভিযোগ, জেলা নেতারা তাঁকে কোনওরকম গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাঁর নিশানায় তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা— ফিরহাদ হাকিম, খলিলুর রহমান, অপূর্ব সরকার প্রমুখ।

‘চাষ বলদ দিয়েই হয়, ছাগল দিয়ে না’ — হুমায়ুনের কটাক্ষ

TV9 বাংলাকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন বলেন, “নেত্রীর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু জেলা নেতৃত্ব নেত্রীর নির্দেশ মানছে না। যে জায়গায় আমি ৬২ বছর ধরে রয়েছি, সেই রেজিনগরেই আমাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।” তাঁর তীব্র কটাক্ষ, “চাষ বলদ দিয়েই হয়, ছাগল দিয়ে না। এবার দেখা যাক, বলদের পক্ষে বেশি লোক আছে, না ছাগলের পক্ষে।”

সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কে ফাটল?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবীরের এই সিদ্ধান্ত সরাসরি সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, তিনি যে সব জেলায় লড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেখানে সংখ্যালঘুদের প্রভাব অত্যন্ত বেশি। ২০১৯-এ বিজেপির টিকিটে মুর্শিদাবাদ থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ ভোট পেয়েছিলেন হুমায়ুন। এবার সেই ভিত্তিতেই জনসংযোগ বাড়িয়ে নতুন দল গড়ার পথে হাঁটছেন তিনি।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: “পিপীলিকা ডানা গজায় মরিবার তরে”

তৃণমূল মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “কারও ইচ্ছা হলে দল করতেই পারে। কিন্তু মানুষের সমর্থন পাবে কি না, তা সময় বলবে।” তাঁর কটাক্ষ, “পিপীলিকা ডানা গজায় মরিবার তরে।”
তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, হুমায়ুন কবীরের পিছনে হয়তো বিজেপির আর্থিক মদত রয়েছে।

অধীর চৌধুরীর মন্তব্য: “সংখ্যালঘু হলেই সংখ্যালঘু ভোট পাবে, এমন নয়”

এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া, “হুমায়ুনকে সামনে রেখে বারবার আমাকে হারানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সংখ্যালঘু হলেই সংখ্যালঘু ভোট পাবে— এমনটা ভাবা ভুল।” তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো ভাবছেন, হুমায়ুন এখন বোঝা হয়ে গিয়েছে। তাই তাঁকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।”

বিজেপির ভবিষ্যদ্বাণী: “আগামী দিনে অনেকেই দল ছাড়বেন”

বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “হুমায়ুনের মতো আরও অনেকে ভবিষ্যতে দল গড়বেন। এমনকি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, কাশেম সিদ্দিকি, এমনকি ববি হাকিমও।” বিজেপির মদত নিয়ে হুমায়ুন দল গড়ছেন কি না, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, “তদন্তকারী সংস্থা সরকারের হাতেই রয়েছে, খোঁজ করলেই সব পরিষ্কার হবে।”

বিশ্লেষণ:
হুমায়ুন কবীরের দল গঠনের সিদ্ধান্ত তৃণমূলের জন্য একটি রাজনৈতিক সতর্কবার্তা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে যদি বিভাজন শুরু হয়, তবে তার প্রভাব ২০২৬-এর নির্বাচনে পড়বে বলেই আশঙ্কা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.