বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-র সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের বিবাদ মেটাতে এবার আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ার পথ বেছে নিচ্ছে ভারতের বৃহৎ গোষ্ঠী আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা আদানি পাওয়ার। ২০১৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ করা বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এই মতবিরোধ চলছে। আদানি গোষ্ঠীর ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশের মোট চাহিদার প্রায় এক দশমাংশ পূরণ করে। জানা যায়, বিদ্যুৎ খরচের বকেয়া হিসেবে একসময় বাংলাদেশের কাছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা) পর্যন্ত পাওনা ছিল। যদিও পরিশোধের কারণে এই পরিমাণ এখন কমে ১৫ দিনের ট্যারিফের সমপরিমাণে নেমে এসেছে।
আদানি গ্রুপের এক মুখপাত্র জানান, বিল তৈরির কিছু উপাদান এবং গণনার ক্ষেত্রে এই মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত একটি সহজ এবং উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সমাধানের আশা করছেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, আলোচনা এখনও বন্ধ হয়নি। তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমান আলোচনা শেষ হলেই, প্রয়োজন মনে করলে তাঁরা আন্তর্জাতিক সালিশির পথে যাবেন। ২০২২ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার অভাব এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা (২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতন) বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করেছিল। এর ফলস্বরূপ, শীতকালে চাহিদা কম থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ সাময়িকভাবে অর্ধেক করে দিয়েছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই পূর্বতন সরকারের সঙ্গে আদানির এই বিদ্যুৎ চুক্তি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। এছাড়াও, বাংলাদেশের অভিযোগ ছিল যে গোড্ডা প্ল্যান্টের জন্য আদানিরা ভারত থেকে পাওয়া কর সুবিধা নিয়ে চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আদানিকে অন্যান্য ভারতীয় সরবরাহকারীদের তুলনায় অনেক বেশি দামে (প্রতি ইউনিট প্রায় ১৪.৮৭ টাকা) বিদ্যুতের দাম পরিশোধ করেছে। আদানি পাওয়ার স্পষ্ট করেছে যে তারা চুক্তির প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখবে।







