রাজনীতি

জেলফেরত পার্থর বিস্ফোরক চিঠি! তৃণমূলকে প্রশ্ন— ‘কোন ধারায় সাসপেন্ড?’

দীর্ঘ ৩ বছর ৩ মাস ১৯ দিন পর সোমবার দুপুরে অবশেষে বাড়ি ফিরলেন এসএসসি দুর্নীতি মামলায় ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ইডি হেফাজত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি পৌঁছন নাকতলার বাড়িতে। কিন্তু সন্ধ্যা নামতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নতুন চাঞ্চল্য — জানা যায়, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন পার্থ।

সূত্রের খবর, চিঠির প্রতিলিপি গিয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর কাছেও। চিঠিতে পার্থের সরাসরি প্রশ্ন — “দলীয় সংবিধানের কোন ধারায় আমাকে সাসপেন্ড করা হল?”

চিঠিতে আরও লেখা, তিনি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন তাঁর দল তাঁকে সাসপেন্ড করেছে। তাঁর অভিযোগ, একই ধরনের মামলায় অভিযুক্ত একাধিক তৃণমূল নেতা যখন দলের সহানুভূতি পেয়েছেন, তখন তাঁর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটল কেন। চিঠিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘নব্য সেনাপতি’ বলে উল্লেখও করেছেন তিনি।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায় হয়তো জেলবন্দি অবস্থাতেই এই চিঠি লিখেছিলেন। কেউ কেউ বলছেন, নাকতলায় ফিরে সেই পুরনো চিঠিই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের দফতরে পাঠিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৩ জুলাই এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল ইডি। তাঁর ‘ঘনিষ্ঠ’ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দুটি ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল পড়েছিল। এর পরেই পার্থকে মন্ত্রিত্ব এবং দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেয় তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তাঁকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সোমবার মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরে পার্থ বলেন, “আমি বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। যাঁরা আমাকে বারবার নির্বাচিত করেছেন, তাঁদের কাছেই বিচার চাইব।” পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে নির্দল বিধায়ক হিসেবেই যোগ দিতে চান এবং বক্তৃতা করবেন।

রাজনৈতিক মহলে এখন জোর আলোচনা— তিন বছর পর ফিরে এসে দলের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললেন ‘দাদা’, তাহলে কি তৃণমূলের অন্দরে নতুন বিতর্কের সূচনা?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.