পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি থানা এলাকায় ঘটল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। প্রতিবেশীর কাছে ধর্ষণের শিকার হয়ে চরম অপমানে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করল এক ১৫ বছরের কিশোরী। এই ঘটনায় আগেই ‘ধর্ষক’কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মেয়েটির মৃত্যুর পর তার পরিবার আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার জন্য অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের অভিযোগে ৪০ বছর বয়সী যেই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তিনি ওই এলাকারই একজন চানাচুর ব্যবসায়ী। নিহত মেয়েটি ওই ব্যবসায়ীকে ‘জেঠু’ বলে ডাকত এবং মাঝেমধ্যে তাঁর কারখানায় কাজ করতে যেত।চলতি বছরের আগস্ট মাসের শেষের দিকে সেই ‘জেঠু’ কারখানায় নিয়ে যাওয়ার নাম করে নাবালিকাকে কাছের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং তাকে ধর্ষণ করে। এরপর মেয়েটিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। প্রথমে লজ্জা এবং ভয়ে মেয়েটি কাউকে কিছু বলতে পারেনি। অবশেষে গত ৯ সেপ্টেম্বর সে বাড়ির লোকজনকে সব কথা খুলে বলে।
ওই দিন বিকেলেই নাবালিকার পরিবার কেশিয়াড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পরের দিনই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং তাকে প্রথমে পুলিশি ও পরে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।পুলিশ ব্যবস্থা নিলেও, এই ঘটনার জের কাটেনি মেয়েটির মন থেকে। গত ২৪ অক্টোবর পরিবারের সকলের অজান্তে বাড়িতে রাখা কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ‘নির্যাতিতা’। তাকে সঙ্গে সঙ্গে কেশিয়াড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ প্রায় ১৮ দিন ধরে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর, মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবারই কিশোরীর দেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে এবং সন্ধ্যায় বাড়িতে তার নিথর দেহ পৌঁছোয়। মৃতার জেঠু হাহাকার করে বলেন, “ওই ঘটনার পর থেকেই ও বড্ড চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল। ওর মন ভালো করার জন্য আমরা বাড়িতে রেখেছিলাম। আস্তে আস্তে স্বাভাবিকও হচ্ছিল। কিন্তু গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় সবার অজান্তে কী যে করল! মঙ্গলবার সকালে সব শেষ! বাঁচাতে পারলাম না ওকে।” তিনি দাবি করেন, যার জন্য তাঁর ভাইঝি এমন চরম পদক্ষেপ নিল, তার যেন কঠিনতম শাস্তি হয়।পরিবারের অনুমান, থানা-পুলিশ হওয়ার পর পাড়ার কেউ বা অভিযুক্তের পরিবারের কেউ হয়তো নাবালিকাকে অপমানজনক কথা বলেছিল, যা সহ্য করতে না পেরেই সে আত্মঘাতী হয়েছে। জেলা পুলিশের একজন আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং সে এখন জেলেই আছে। তবে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।







