অঞ্জলি শীল নামে এক গৃহবধূর নামে অসম সরকারের পাঠানো এনআরসি (NRC) সংক্রান্ত নোটিশ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ফালাকাটার জটেশ্বরের ওই বাসিন্দা জানালেন, তাঁর হাতে এখনও পর্যন্ত কোনও নোটিশ আসেনি। অথচ সেই চিঠির খবর পৌঁছে গিয়েছে সংবাদমাধ্যমের হাতে এবং তা হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক বিতর্কের আগুনে ঘি।
অঞ্জলি দেবীর বক্তব্য, “যদি সত্যিই আমার নামে কোনও নোটিশ আসে, তাহলে তা হয় পুলিশের কাছে থাকবে, নয়তো সরাসরি আমার হাতে আসবে। কিন্তু আমি জানতেই পারিনি, আমার নামে এমন কিছু এসেছে। অথচ সংবাদমাধ্যমে সেটা ঘুরছে! এটা কীভাবে সম্ভব?”
আলিপুরদুয়ার থেকে কয়েকজন সাংবাদিক তাঁকে ফোন করে জানানোর পর বিষয়টি জানেন তিনি। অঞ্জলিদেবীর দাবি, তাঁর আদি বাড়ি অসমে, স্বামী নিত্য শীলও সেকথা নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের আত্মীয়স্বজন, এমনকি শ্বশুরবাড়ির লোকজনও সেখানে থাকেন এবং তাঁদের সবাই ইতিমধ্যেই এনআরসি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়েছেন।
এই প্রেক্ষিতে সামনে এসেছে ৩ জুলাই কোকরাঝাড় জেলার ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল থেকে জারি হওয়া একটি নোটিশ, যা সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার জেরে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছেন ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন। তাঁর প্রশ্ন, “যার নামে নোটিশ, তিনি জানলেন না অথচ সেই কাগজ মুখ্যমন্ত্রীর হাতে কীভাবে গেল? এটা কি তৃণমূলের নাগরিকত্ব নিয়ে রাজনীতির অংশ নয়?” পাশাপাশি তিনি নোটিশের সত্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধছে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এনআরসি নিয়ে। প্রশ্ন উঠছে, কোনও ব্যক্তিকে পাঠানো সরকারি নথি সংবাদমাধ্যম কিংবা রাজনৈতিক মহলে কীভাবে আগে পৌঁছচ্ছে, যখন সেই ব্যক্তি নিজেই কিছু জানেন না?







