রাজনীতি

জেল থেকে বেরিয়েই রাজনীতির কেন্দ্রে পার্থ চট্টোপাধ্যায়! তৃণমূলের দরজা বন্ধ, বেহালায় জল্পনা—BJP-তেই কি নতুন ইনিংস?

নিজস্ব সংবাদদাতা: সাড়ে তিন বছর পর শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েই ফের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর তিনি সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করেছেন—“আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। সময়ই প্রমাণ দেবে, রাজনীতিতে আমার ফিরে আসা অবশ্যম্ভাবী।”

কিন্তু তাঁর এই আত্মবিশ্বাসী সুরের মধ্যেই কালীঘাটের বার্তা স্পষ্ট—তৃণমূল এখনও পার্থকে দলে ফেরাবে না। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় যে ছয় বছরের সাসপেনশন কার্যকর হয়েছিল, তা এখনই তোলার কোনও প্রশ্ন নেই। বরং নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগাযোগ রাখবে না তৃণমূল। এক শীর্ষ নেতার মন্তব্য—“ওঁর ছায়াও দল মাড়াবে না।”

এই অবস্থায় নিজের পুরনো ঘাঁটি বেহালা পশ্চিমে ফের সক্রিয় হচ্ছেন পার্থ। এলাকা ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, এবং সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন এক খোলা চিঠি, যেখানে তিনি লিখেছেন—
“বেহালা পশ্চিমের মানুষ আমাকে পাঁচবার আশীর্বাদ করেছেন। আমি যদি দোষী হতাম, তারা কি আমাকে ভোট দিতেন?”

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্যে তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট—২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বেহালা পশ্চিম থেকেই ফের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা।

তবে এই ‘ফিরে আসা’ কোন দলের পতাকায়? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
তৃণমূল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—দলে ফেরার সুযোগ নেই। ফলে কলকাতা রাজনীতিতে জোর জল্পনা—পার্থ চট্টোপাধ্যায় কি এবার বিজেপি-র দিকেই ঝুঁকছেন?

২০২১ সালের নির্বাচনে বেহালা পশ্চিমে পার্থ চট্টোপাধ্যায় পেয়েছিলেন ১,১৪,৭৭৮ ভোট, যা মোট ভোটের প্রায় ৪৯ শতাংশ। তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব এখনো এলাকায় যথেষ্ট। সেই ভোটব্যাঙ্ক যদি বিজেপির সঙ্গে যায়, তাহলে তা দলীয় সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে—এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

তবে বিজেপির মধ্যেও বিভাজন স্পষ্ট। একাংশ মনে করছে, “দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নেতাকে দলে নিলে বিরোধীরা তা হাতিয়ার করবে।” আবার অপরপক্ষের মতে, “বেহালা পশ্চিমে প্রভাবশালী স্থানীয় মুখ হিসেবে পার্থকে প্রার্থী করা কৌশলগতভাবে লাভজনক হতে পারে।”

এদিকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজে এখনো লড়াইয়ের মেজাজে। তাঁর ভাষায়,
“বেহালার মানুষ আমার শক্তি। আমি ফিরে আসব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই লড়াই কেবল একজন নেতার নয়—এটি তাঁর “প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণের যুদ্ধ”।
তৃণমূলের দরজা আপাতত বন্ধ।
তাহলে কি এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়-র নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হবে বিজেপির পতাকা তলায়?

উত্তর সময়ই দেবে।
কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত—পার্থ চট্টোপাধ্যায় আবার রাজনীতির হাই ভোল্টেজ কেন্দ্রে ফিরে এসেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.