অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই নাটকীয়তা। পার্থে প্রথম টেস্টে হারের পর ব্রিসবেনের গ্যাবা স্টেডিয়ামে দিন-রাতের এই ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ইংল্যান্ড। যদিও শুরুটা হয়েছিল বিভীষিকার মতো, কিন্তু ওপেনার জ্যাক ক্রলি এবং অভিজ্ঞ জো রুট তাঁদের শতরানের পার্টনারশিপে দলকে বিপন্মুক্ত করেছেন।
টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। কিন্তু ম্যাচের শুরুতেই সেই সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ করে দেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার মিচেল স্টার্ক। বেন ডাকেট (০) এবং ওলি পোপ (০) স্টার্কের বলে ফিরে গেলে ইংল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৫/২। স্টার্ক এই উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাঁহাতি দ্রুত বোলার হিসেবে ওয়াসিম আকরামের (৪১৪ উইকেট) রেকর্ড স্পর্শ করেন। এই চরম চাপের মুহূর্তে দলের হাল ধরেন জ্যাক ক্রলি এবং জো রুট। দ্বিতীয় সেশনের মাঝামাঝি সময়ে এই জুটি তাঁদের শতরানের পার্টনারশিপ পূর্ণ করে। ক্রলি তাঁর ২০তম টেস্ট অর্ধশতরান পূর্ণ করেন মাত্র ৬৮ বলে।
চা বিরতির সময় ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল ৯৮/২। ক্রলি ৬১ এবং রুট ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। তবে চা বিরতির পরেই আসে ধাক্কা। অস্ট্রেলিয়ার বোলার মাইকেল নেসার-এর বলে উইকেটরক্ষক ক্যারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৭৬ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ক্রলি। নেসারের বলে বাউন্স বেশি হওয়ায় ক্রলি পুল শট খেলতে গিয়ে ভুল করেন। এই উইকেটটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এর আগে তারা বেশ কিছুটা নিষ্প্রভ দেখাচ্ছিল।
এদিকে, এই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স (পিঠের চোটের কারণে) এবং প্রধান স্পিনার নাথান লায়নকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। লায়নের জায়গায় দলে এসেছেন পেসার মাইকেল নেসার। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দলে চোটের কারণে পেসার মার্ক উডের পরিবর্তে এসেছেন অফ-স্পিনিং অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস। অস্ট্রেলিয়া যেখানে ১-০-তে এগিয়ে, সেখানে ইংল্যান্ড এই দিন-রাতের ম্যাচে ভালো পারফর্ম করে সিরিজে ফিরতে মরিয়া। তবে সন্ধ্যায় পিঙ্ক বলের সুইং কতটা বিপদ তৈরি করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।







