নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা সময়ে কটাক্ষ, সমালোচনা, প্রশ্ন— সবই সামলাতে হয়েছে মলাইকা অরোরাকে। তবু তারকা-অভিনেত্রী কখনও মুখ লুকোননি। বরাবরই স্বচ্ছ ও স্পষ্টভাষী মলাইকা আবারও লিঙ্গবৈষম্যের প্রসঙ্গ তুললেন এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে। বললেন, সমাজ এখনও নারীকে বিচ্ছেদ, সম্পর্ক বা নতুন করে জীবন শুরু করার অধিকারে পুরুষের সমান জায়গা দিতে রাজি নয়।
মলাইকার অভিযোগ, “আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রতিদিনই কাটাছেঁড়া হয়। আমি কী করছি, কেন করছি— সে নিয়েই প্রশ্ন। অথচ একজন বিবাহবিচ্ছিন্ন পুরুষ যদি নিজের অর্ধেক বয়সি নারীকে বিয়ে করেন, তাঁকে সাধুবাদ জানানো হয়। কিন্তু কোনও নারী একই কাজ করলে সমাজ প্রশ্ন তোলে— ‘কেন করছ’, ‘এটা কি ঠিক?’— এমন সব মন্তব্য শোনাতে হয়।”
সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ্যে আসতেই বলিউড মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে— নাম না করলেও মলাইকা আসলে কি প্রাক্তন স্বামী আরবাজ় খানকে লক্ষ্য করেই কথা বলেছেন? কারণ আরবাজ় ও মলাইকার ১৯ বছরের দাম্পত্য ভাঙার পর অভিনেতা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন সুরা খানকে, যাঁর বয়স আরবাজ়ের প্রায় অর্ধেক। অন্যদিকে অভিনেতা অর্জুন কপূরের সঙ্গে সম্পর্কের সময়ে বরাবরই ট্রোলিং, কটাক্ষ, বয়স নিয়ে বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়েছে মলাইকা অরোরাকে।
তবে মলাইকার বক্তব্যে আক্রমণ নয়, বরং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ক্ষোভই স্পষ্ট। তাঁর প্রশ্ন— নারী নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিলে তা নিয়ে নৈতিকতার কাঠগড়া তৈরি হয় কেন? একই পথে হাঁটলে পুরুষকে সাধুবাদ, নারীকে সমালোচনা— এই বৈষম্যই কি আধুনিক সমাজের প্রকৃত চেহারা?
সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক জমেছে। অনেকে মলাইকার বক্তব্যকে সমাজের চাপা লিঙ্গবৈষম্যের বাস্তব চিত্র বলেছেন, আবার কেউ মনে করছেন— প্রাক্তন স্বামীর নতুন জীবনের পরিপ্রেক্ষিতেই মন্তব্যটি করেছেন মলাইকা। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, তাঁর কথায় নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে নারী-পুরুষের সামাজিক স্বাধীনতা ও তার দ্বিচারিতা।







