আদিত্য ধর পরিচালিত নতুন ছবি ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে ঝড় তুললেও বিতর্কের আঁচ ক্রমেই বাড়ছে। ছবিতে অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত রূপ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক চৌধরি আসলাম খান-কে। বাস্তব জীবনে ২০১৪ সালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন এই সাহসী আধিকারিক। তাঁর স্ত্রী নোরিন আসলাম সম্প্রতি পাকিস্তানের এক জনপ্রিয় পডকাস্টে মুখ খুলে জানিয়েছেন, ‘ধুরন্ধর’-এর ঝলক দেখে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত।
নোরিনের অভিযোগ, ছবির ট্রেলারে আসলাম চরিত্রটিকে “শয়তান” বা “জিন”-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে—যা তাঁদের সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত অসম্মানজনক। তাঁর কথায়, “এই শব্দ শুধু আমার স্বামীরই অপমান নয়, তাঁর মায়ের প্রতিও অসম্মান। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ, সৎ ও ধর্মপরায়ণ মানুষ।”
বিধবার দাবি, তাঁর স্বামী বরাবরই সঞ্জয় দত্তের অনুরাগী ছিলেন। ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘খলনায়ক’ দেখার পর থেকেই তিনি সঞ্জয়কে পছন্দ করতেন। তাই স্বামীর চরিত্রটি নিয়ে অন্যায় হওয়ার ধারণা কখনও তাঁর ছিল না। কিন্তু ঝলকের ভঙ্গি দেখে তাঁর মনে হয়েছে, চরিত্রটিকে অকারণে অন্ধকারময় রূপ দেওয়া হয়েছে।
যদিও তিনি এখনও পুরো ছবি দেখেননি, তবুও নোরিন স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন—যদি দেখা যায় যে ছবিতে আসলামের ভাবমূর্তি বিকৃত করা হয়েছে, কিংবা পাকিস্তানবিরোধী কোনও প্রোপাগান্ডা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি আইনি পদক্ষেপ করতে বাধ্য হবেন। তাঁর কটাক্ষ, “ভারতের পরিচালকরা কি পাকিস্তানকে অসম্মান করা ছাড়া আর কোনও বিষয় খুঁজে পান না!”
‘ধুরন্ধর’-এর কাহিনি জুড়ে রয়েছে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের যুদ্ধ, সীমান্তের টানাপোড়েন এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁস। ছবিতে সঞ্জয়ের পাশাপাশি রয়েছেন রণবীর সিংহ, অক্ষয় খন্না, অর্জুন রামপাল, আর মাধবন ও সারা অর্জুন। মুক্তির পর দর্শক আগ্রহে ভরপুর হলেও পাকিস্তানের এই অস্বস্তি চলচ্চিত্রটিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।







