বিশ্ব

আফ্রিকার রাজনীতিতে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ইসরায়েলের! প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দিল নেতানিয়াহু প্রশাসন

আফ্রিকার রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড় নিয়ে এল ইসরায়েলের একটি বড় সিদ্ধান্ত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা সোমালিল্যান্ডকে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিল ইসরায়েল। গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ১৯৯১ সাল থেকে সোমালিল্যান্ড কার্যত স্বাধীনভাবে নিজেদের প্রশাসন চালালেও এতদিন কোনো দেশই তাদের মানচিত্রে স্বতন্ত্র দেশ হিসেবে জায়গা দেয়নি। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপে সোমালিল্যান্ডের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক একাকিত্ব ঘুচে যাওয়ার এক নতুন পথ তৈরি হলো।

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই স্বীকৃতির কথা জানিয়ে বলেন, সোমালি ল্যান্ডের সঙ্গে ইসরায়েল এখন থেকে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে। বিশেষ করে কৃষি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করা, প্রযুক্তি আদান-প্রদান এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে শুরু হওয়া ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর সদিচ্ছার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার এক নতুন যুগের সূচনা হবে। সোমালি ল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহিও এই স্বীকৃতির জন্য ইসরায়েলকে ধন্যবাদ জানিয়ে একে বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে এই সিদ্ধান্তে গোটা আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ হু হু করে বাড়ছে। সোমালিয়া শুরু থেকেই সোমালিল্যান্ডের আলাদা হওয়ার কড়া বিরোধী। তাদের দাবি, এই স্বীকৃতি সোমালিয়ার অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত। সোমালিয়ার পাশাপাশি মিশর, তুরস্ক এবং জিবুতির মতো দেশগুলোও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, ‘আফ্রিকার শিং’ (Horn of Africa) বলে পরিচিত এই অঞ্চলে এর ফলে নতুন করে অশান্তি ও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই সাহসী সিদ্ধান্তের পর এখন অন্য দেশগুলোও সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে হাঁটে কি না, সেটাই দেখার। এই একটি ঘোষণা যেমন সোমালিল্যান্ডের সামনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দরজা খুলে দিতে পারে, তেমনই আফ্রিকার ভূ-রাজনীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.