দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাওবাদী দমন অভিযানে আরও একাধিক সাফল্য পেল নিরাপত্তাবাহিনী। সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা জঙ্গলে ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন মোট ১৪ জন মাওবাদী। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাঁকুড়ার বারিকুল থানার ইঁদকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা সুরেন্দ্রনাথ সোরেন ওরফে সমীর। জানা গিয়েছে, সুরেন্দ্রনাথ সিপিআই (মাওবাদী)-র সারান্ডা জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন।
নিরাপত্তাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই সারান্ডার দুর্গম জঙ্গলে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলির লড়াই হয়, যার জেরে ১৪ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়। এলাকা জুড়ে এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে।
এর আগে ওড়িশার কন্ধমলের জঙ্গলেও বড় সাফল্য পায় নিরাপত্তাবাহিনী। সেখানে এনকাউন্টারে নিহত হন শীর্ষ মাওবাদী নেতা গণেশ উইকে। তার মাথার দাম ছিল প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। ওই অভিযানে আরও তিন মাওবাদীর মৃত্যুর খবর মিলেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীদের উদ্দেশে মাওবাদী নেতৃত্বের তরফে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিতে দাবি করা হয়, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাওবাদী বিরোধী অভিযান বন্ধ রেখে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হোক। চিঠিতে আরও বলা হয়েছিল, আগামী তিন মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তবে সেই আবেদনের মধ্যেই সারান্ডার জঙ্গলে এই বড় এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটল।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে গোটা দেশ থেকে মাওবাদ নির্মূল করাই সরকারের লক্ষ্য। সম্প্রতি শীর্ষ মাওবাদী নেতা মাদভি হিদমা ও গণেশ উইকের মৃত্যু সেই লক্ষ্যপূরণের পথে বড় সাফল্য বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, মাদভি হিদমার মৃত্যু নিরাপত্তাবাহিনীর জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে মাওবাদী সংগঠনের ভিত আরও দুর্বল হবে।
নিরাপত্তাবাহিনীর একাংশের মতে, আগামী দিনে আরও জোরদার হবে মাও দমন অভিযান, বিশেষ করে ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও মধ্যপ্রদেশের সীমান্তবর্তী জঙ্গল এলাকাগুলিতে।







