জেলা

হাসপাতাল চত্বরে সদ্যোজাতের মুণ্ড মুখে নিয়ে ঘোরাফেরা কুকুরের, জলপাইগুড়ি মেডিকেলে চাঞ্চল্য

জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব চত্বরে শনিবার দুপুরে এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি কুকুরকে সদ্যোজাত এক শিশুর মুণ্ড মুখে নিয়ে হাসপাতালের ইমার্জেন্সির দিকে ছুটে যেতে দেখা যায়।

হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত রোগীর আত্মীয়স্বজনেরা কুকুরটিকে তাড়া করলে কিছুদূর গিয়ে সেটি মুণ্ডটি ফেলে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। কোথা থেকে এবং কীভাবে হাসপাতাল চত্বরে সদ্যোজাতের মাথা এল, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। সবচেয়ে বড় রহস্য—শিশুটির দেহটি কোথায় গেল?

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, শুধুমাত্র মাথাটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ দানা বাঁধছে। তাঁদের দাবি, কুকুরে গোটা দেহ খেয়ে ফেললেও মুণ্ডটি সম্পূর্ণ অক্ষত থাকা স্বাভাবিক নয়। এই বিষয়টি ঘিরেই তৈরি হয়েছে জটিল রহস্য।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সদ্যোজাতের মুণ্ডটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ জানান, পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তাঁর ধারণা, শিশুটি হাসপাতালের নয়। তবে পুরো বিষয়টি যে অত্যন্ত সন্দেহজনক, তা স্বীকার করেছেন তিনি। এমএসভিপি বলেন, “যদি কুকুর সদ্যোজাতের মাথা নিয়ে ঘোরে, তাহলে দেহটি কোথায় গেল—এ প্রশ্ন তো থাকেই।”

ঘটনার সময় উপস্থিত কাদোবাড়ির বাসিন্দা মৌমিনা খাতুন জানান, কুকুরটিকে মাথা মুখে নিয়ে দৌড়তে দেখে তাঁরা তাড়া করেন। ধূপগুড়ির বাসিন্দা মৃণাল রায়ও প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে কেবলমাত্র মাথাটি হাসপাতাল চত্বরে এল এবং দেহটির কোনও হদিস নেই।

হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, হাসপাতালে মৃত শিশু প্রসব হলে পরিবার চাইলে দেহ হস্তান্তর করা হয়, নচেৎ তা নিয়ম মেনে মর্গে পাঠানো হয়। কোনও পরিবার নিয়ম ভেঙে মৃত শিশুকে বাইরে ফেলে দিয়েছে কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুরো ঘটনার তদন্ত রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে জলপাইগুড়ি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.