দেশ

বাজেট অধিবেশনের আগে সর্বদলীয় বৈঠক, রবিবার পেশ হবে কেন্দ্রীয় বাজেট

আগামী মাসের শুরুতেই সংসদে পেশ হতে চলেছে কেন্দ্রীয় বাজেট। তার আগে সংসদের কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে বসছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদীয় ঐতিহ্য মেনে, ২৭ জানুয়ারি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে ২৮ জানুয়ারি। তার আগে ২৭ জানুয়ারি সকাল ১১টায় সংসদ ভবনের কমিটি রুমে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকটি ডেকেছেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, বাজেট অধিবেশন চলবে ২ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রথম পর্ব শেষ হবে ১৩ ফেব্রুয়ারি, এরপর বিরতির পর ৯ মার্চ ফের সংসদ বসবে।

দীর্ঘদিনের সংসদীয় রীতি মেনে, অধিবেশনের সূচনা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু লোকসভা ও রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে লোকসভায় তিন দিন আলোচনা হবে। এদিকে, ২৮ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে কোনও শূন্য ঘন্টা থাকবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এবারের বাজেট ঘিরে বাড়তি কৌতূহল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে। বহুদিন পর রবিবার কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হতে চলেছে। এই নিয়ে টানা নবমবার বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

সূত্রের খবর, ‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা থাকতে পারে এবারের বাজেটে। ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই রূপরেখা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভিবি-জি-রাম-জি প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়তে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে, যা বিরোধীদের আক্রমণের জবাব হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও এবারের বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ঘিরে সম্ভাব্য চাপের মুখে ভারতীয় অর্থনীতিকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা হবে, সেদিকেও নজর রয়েছে কেন্দ্রের।

বর্তমানে লোকসভায় মোট ন’টি বিল বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল, ২০২৫; সিকিউরিটিজ মার্কেটস কোড, ২০২৫; এবং সংবিধান (একশো উনত্রিশতম সংশোধনী) বিল, ২০২৪। এই বিলগুলি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি অথবা নির্বাচন সংক্রান্ত কমিটিতে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

সাধারণত, বাজেট অধিবেশনের আগে ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য বিরোধী দলগুলির সহযোগিতা নিশ্চিত করা, যাতে সংসদের দুই কক্ষে নির্বিঘ্নে কাজকর্ম চালানো যায়। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করার সুযোগও তৈরি হয় এই বৈঠকে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এবছরের বাজেটে নির্বাচনমুখী কয়েকটি রাজ্যের জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.