জেলা

ইঞ্জিনিয়ার থেকে গবেষক— ‘যুবসাথী’র লাইনে উচ্চশিক্ষিতরাও

পূর্ব মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা: মাস্টার্স ডিগ্রি হাতে দেবরতি জানা, পকেটে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সনদ নিয়ে সৌপ্তিক মৈত্র, আর পাশে ফিজিক্সের গবেষক তুহিনকুমার নাথ— লক্ষ্য ছিল গবেষণাগার, কর্পোরেট দুনিয়া কিংবা স্থায়ী শিক্ষকতা। বাস্তব তাঁদের দাঁড় করিয়েছে সরকারি ভাতার লাইনে। রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে মাসে দেড় হাজার টাকার অনুদানের আবেদন জানাতে সোমবার রাজ্যের নানা প্রান্তে এমনই দৃশ্য ধরা পড়ল।

যুবসাথী প্রকল্প-এর ফর্ম জমা দিতে এগরা-২ নম্বর ব্লকের বালিঘাই বিডিও অফিস চত্বরে সকাল থেকেই উপচে পড়া ভিড়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পাশ করা দেবরতি বলেন, “সরকারি চাকরির চেষ্টা করছি। কিন্তু এখনও সফল হইনি। আপাতত কিছু আর্থিক সহায়তা পেতে নাম লেখালাম।” কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাশ করা সৌপ্তিকের বাবা জানান, “ছেলে চেষ্টা চালাচ্ছে। হাতখরচের জন্য এই সুবিধে নিতে দোষ কোথায়?”

পূর্ব মেদিনীপুরের বাইরেও একই ছবি। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া ব্লকে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বচসা থেকে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয় বলে অভিযোগ। মালদহের চাঁচল ও জলপাইগুড়ির পাণ্ডাপাড়া চেকপোস্ট সংলগ্ন শিবিরেও ধাক্কাধাক্কির খবর মিলেছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, নিয়ন্ত্রণে আনতে ‘মৃদু বলপ্রয়োগ’ করা হয়েছে।

চুঁচুড়ার গবেষক তুহিনকুমার নাথের কথায়, “স্বচ্ছভাবে নিয়মিত পরীক্ষা হলে আজ এই লাইনে দাঁড়াতে হতো না।” পাশকুড়ার স্নাতক নাহিদা নাজমিনের সরল প্রশ্ন, “যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পেলে কি এখানে আসতাম?”

এগরা-২ ব্লকের কর্মাধ্যক্ষ ও তৃণমূল ব্লক সভাপতি রাজকুমার দুয়ারী বলেন, “প্রথম দিনেই যুবশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ একাধিক প্রকল্পে বিপুল সাড়া মিলেছে। উচ্চশিক্ষিত আবেদনকারীদের জন্য আলাদা কাউন্টার করা হয়েছে।”

মাসে দেড় হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা— অঙ্কে ছোট হলেও তার আবেদন যে বড়, তা স্পষ্ট লাইনের দৈর্ঘ্যেই। তবে শিক্ষিত যুবসমাজের এই ভিড় রাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.