রাজনীতি

হোয়াটসঅ্যাপে ‘নির্দেশ’, সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষিত? নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে অভিষেকের বিস্ফোরক অভিযোগ

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) কার্যপ্রণালী নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ Abhishek Banerjee। একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত Supreme Court of India-এর নির্দেশ কি কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে? তাঁর দাবি, আনুষ্ঠানিক ও নথিবদ্ধ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হোয়াটসঅ্যাপের মতো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে—যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন তোলে।

সাংসদের বক্তব্য, Election Commission of India-র বৈধতা জনগণের আস্থা থেকে উৎসারিত; কোনও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থেকে নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায়ে স্বচ্ছতা, নির্ধারিত যোগাযোগব্যবস্থা এবং প্রক্রিয়াগত শুদ্ধতার উপর জোর দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে অনানুষ্ঠানিক মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে নির্দেশ আদানপ্রদান হলে তা বিচারবিভাগীয় নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তাঁর অভিমত।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্পেশ্যাল রোল অবজারভার C Murugan। অভিষেকের দাবি, তিনি মাইক্রো অবজার্ভারদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্থ সার্টিফিকেটের গ্রহণযোগ্যতা সংক্রান্ত নির্দেশ দিচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, এর উদ্দেশ্য ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সংখ্যা বাড়ানো। তিনি মনে করিয়ে দেন, সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করেছে—মাইক্রো অবজার্ভারদের ভূমিকা সহায়ক; সিদ্ধান্তমূলক নয়। সে ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ পদ্ধতি এড়িয়ে এই ধরনের নির্দেশ জারির অনুমতি কার, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এছাড়া সাংসদের আরও দাবি, জেলা-ভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত রোল অবজার্ভারদের লগ-ইন তথ্য কলকাতার একটি কেন্দ্রীয় স্থান থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ওই লগ-ইন ডেটা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এমনকি দিল্লিতে বসে কমিশনের ‘রাজনৈতিক প্রভুদের’ নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত করেছেন তিনি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, স্বাধীন তদন্ত হলে লগ-ইন ডিভাইসের টাওয়ার লোকেশন ও আইপি ঠিকানা সংশ্লিষ্ট রোল অবজার্ভারের প্রকৃত অবস্থানের সঙ্গে না-ও মিলতে পারে—যা অনুমোদিত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কারও দ্বারা অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সম্ভাবনা নির্দেশ করতে পারে। তিনি জানান, বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে তোলা হবে এবং যাঁরা বেআইনি নির্দেশ বাস্তবায়নে যুক্ত—তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ চাওয়া হবে।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে চলমান বিতর্কের আবহে এই অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যাখ্যার প্রয়োজন—এমনটাই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.