দেশ

Citizenship Amendment Act মামলা: মে’তেই চূড়ান্ত শুনানি, রায়ের অপেক্ষায় দেশ

২০১৯ থেকে ২০২৬—এই সময়কালে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে ঘিরে বারবার উত্তাল হয়েছে দেশ। আইনের সমর্থন ও বিরোধিতার টানাপোড়েনে দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৫৬ জন; অন্যত্রও ছড়িয়েছে হিংসার আঁচ। নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে কেন্দ্র আইন কার্যকর করলেও, তার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আদালতের হাতে। অবশেষে সেই নিষ্পত্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মে’তেই শেষ শুনানি, মাসখানেকের মধ্যে রায়
Supreme Court of India-এর প্রধান বিচারপতি Surya Kant এবং বিচারপতি Joymalya Bagchi-র বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী ৫ থেকে ১২ মে’র মধ্যে এই সংক্রান্ত সব শুনানি শেষ করা হবে। শুনানি শেষের প্রায় এক মাসের মধ্যেই রায় ঘোষণা করার ইঙ্গিত দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

এই মামলায় মোট ২৪৩টি আবেদন বিচারাধীন। মূল আবেদনকারী Indian Union Muslim League। পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে All India Trinamool Congress, Communist Party of India (Marxist), Dravida Munnetra Kazhagam-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল ও এনজিও। আবেদনকারীদের তরফে আইনের উপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হলেও তৎকালীন প্রধান বিচারপতি D. Y. Chandrachud তা মঞ্জুর করেননি। ২০২৪ সাল থেকে আইনটি কার্যকর; ইতিমধ্যে বহু মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন—তাদের বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। তবে ঘোষিত প্রতিশ্রুতির তুলনায় প্রাপ্তির সংখ্যা কম—এমন অভিযোগও রয়েছে।

আইনের মূল প্রস্তাব কী?
আইন অনুযায়ী পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে বিতাড়িত হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখ ও জৈন সম্প্রদায়ের মানুষকে ভারতে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। মুসলিমদের এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে—যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিরোধীদের যুক্তি বনাম কেন্দ্রের সাফাই
বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের একাংশের বক্তব্য, নাগরিকত্ব প্রদানে ধর্মভিত্তিক বাছাই সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থী। তাঁদের দাবি, রাষ্ট্র কখনও কোনও বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠীকে বঞ্চিত করতে পারে না।

অন্যদিকে কেন্দ্রের যুক্তি, দেশভাগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশগুলিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার প্রশ্নে ভারতের নৈতিক দায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ; সেখানে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেই সরকারের দাবি। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য—ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য না করার সাংবিধানিক বিধান ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; এই আইনে বিবেচ্য ব্যক্তিরা ভিনদেশের নাগরিক, ফলে এখানে ধর্ম-ভিত্তিক মানদণ্ড আরোপে সাংবিধানিক বাধা নেই বলে কেন্দ্রের সওয়াল।

কী হতে পারে পরিণতি?
মে’তে শুনানি শেষ হলে দেশের রাজনৈতিক-আইনি অঙ্গনে এক বড় অধ্যায়ের ইতি টানতে পারে সর্বোচ্চ আদালত। রায় যেদিকেই যাক, তার প্রভাব পড়বে জাতীয় রাজনীতি, নাগরিকত্ব নীতি এবং আন্তঃসম্প্রদায়িক সম্পর্কের ওপর। এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.