বন্দে মাতরমের প্রথম দু’টি স্তবকই গাওয়া হবে—কংগ্রেসের এই অবস্থান নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি অসম্মান এবং দীর্ঘদিনের তোষণের রাজনীতিরই প্রতিফলন। শাহের অভিযোগ, মুসলিম তোষণের কারণেই ১৯৩৭ সালে বন্দে মাতরমকে ভাগ করেছিল কংগ্রেস। মোদি সরকার সেই ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের অধিবেশনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, বন্দে মাতরমের প্রথম দু’টি স্তবকই পরিবেশন করা হবে। বুধবার কংগ্রেসের কার্যকরী সমিতির বৈঠকেও সেই সিদ্ধান্তেই অটল থাকার কথা জানানো হয়েছে। এই অবস্থানের বিরোধিতা করে শাহ বলেন, ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তের পিছনে মুসলিম তোষণ কাজ করেছিল। তাঁর মতে, সেই পদক্ষেপই পরবর্তী সময়ে দ্বিজাতি তত্ত্বের পথ প্রশস্ত করে এবং শেষ পর্যন্ত দেশভাগ ও পাকিস্তান সৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
কংগ্রেসের সিদ্ধান্তকে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে শাহ আরও বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি বন্দে মাতরম অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর লড়াইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এই গান গেয়ে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং কারাবরণ করেছেন। তাই গানটিকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত তাঁদের প্রতিও অসম্মান বলে দাবি তাঁর।
শাহের বক্তব্য, ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তের পর দেশকে তার ফল ভোগ করতে হয়েছে। এখন সেই পুরনো সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে এনে কংগ্রেস ফের তোষণের রাজনীতির পথেই হাঁটছে। তবে দেশের মানুষ এই অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবেন বলেও মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানিয়েছেন, বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু এবং সর্দার প্যাটেলের মতো নেতারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, দল সেই অবস্থানেই থাকবে। তাঁর দাবি, বন্দে মাতরম কংগ্রেসের কাছে আবেগের বিষয় হলেও বিজেপি এই গানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে।
ফলে বন্দে মাতরমের স্তবক নিয়ে কংগ্রেস-বিজেপি সংঘাত আরও তীব্র হল। একদিকে কংগ্রেস ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তে অনড়, অন্যদিকে সেই সিদ্ধান্তকেই ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলে ফের একবার আক্রমণের মুখে ফেললেন অমিত শাহ।







